শনিবার, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

এনইসিতে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

আসন্ন অর্থবছরের (২০২৪-২৫) জন্য ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

 

বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুজ্জামান সরকার ও পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকারসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং অন্যান্য সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপিতে মোট প্রকল্প থাকছে ১ হাজার ৩২১টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ১৩৩টি, কারিগরি সহায়তার ৮৭টি এবং সমীক্ষা প্রকল্প রয়েছে ২১টি। মোট প্রকল্পের মধ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি থেকে স্থানান্তর হবে ১ হাজার ২৭৭টি প্রকল্প। বাকিগুলোর মধ্যে নতুন অনুমোদিত প্রকল্প রয়েছে ৬০টি।

 

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জেলাভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান করা হবে। এ জন্য অনুমোদন দিয়েছে এনইসি। আগামীতে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পশ্চাৎপদ বলতে কোনো কথা থাকবে না। এ জন্যই এখন জেলা মাস্টারপ্ল্যান করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে দরিদ্র ছিল ৭০ শতাংশ। এখন সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অতি দরিদ্র ছিল ৫০ শতাংশ। এখন সেটি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দরিদ্র আরও কমে আসবে।

 

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাছাইয়ে যথাযথ মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আশা করছি, এবার সর্বোচ্চ এডিপি বাস্তবায়ন হবে।

 

পরিকল্পনা সচিব সত্যজিত কর্মকার বলেন, এবার উচ্চাভিলাষী এডিপি তৈরি করা হয়নি। রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় করা হবে। প্রকল্পবাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নতুন এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় ২ হাজার কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) তুলনায় ২০ হাজার কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে গেছে ৭০ হাজার ৬৮৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৩৮ হাজার ৮০৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা পাবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

 

এদিকে সবচেয়ে কম বরাদ্দ পাওয়া খাত হলো প্রতিরক্ষা। এখানে ধরা হয়েছে ৭১০ কোটি টাকা। প্রকল্প থাকছে ১ হাজার ৭৩৭টি।

 

ব্রিফিং এ জানানো হয়, আগামী অর্থবছরে এডিপিতে সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তা মিলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরেও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন আছে ১৩ হাজার ২৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ধরলে নতুন এডিপির আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

 

এডিপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৪০ হাজার ৭৫১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৩১ হাজার ৫২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা গেছে শিক্ষা খাতে। অন্যান্য খাতের বরাদ্দ হচ্ছে-গৃহায়ন ও কমিউনিটিতে ২৪ হাজার ৮৬৮ কোটি ৩ লাখ, স্বাস্থ্যে ২০ হাজার ৬৮২ কোটি ৮৮ লাখ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে ১৭ হাজার ৯৮৬ কোটি ২১ লাখ, কৃষি খাতে ১৩ হাজার ২১৯ কোটি টাকা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবায় ৬ হাজার ৪৯২ কোটি ১৮ লাখ, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ৪ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯২ লাখ, ধর্ম-সংস্কৃতি ও বিনোদনে ৩ হাজার ৪৯২ কোটি, সামাজিক সুরক্ষায় ৩ হাজার ৩০৪ কোটি, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষায় ৩ হাজার ৩০৮ কোটি এবং সাধারণ সরকারি সেবা খাতে দেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা।

 

আগামী অর্থবছরের এডিপিতে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৩২ হাজার ৪২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে । তৃতীয় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎবিভাগ পেয়েছে ২৯ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬ হাজার ১৩৫ কোটি, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ১৩ হাজার ৭৪১ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৩ হাজার ৭২৫ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৮৮৬ কোটি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ১১ হাজার ৩৮৭ কোটি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

All Rights Reserved ©2024