বুধবার, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ঐতিহ্যবাহী ৫০০ বছরের শংকরপাশা শাহী মসজিদ

মোগল আমলের নান্দনিক কারুকার্য এবং স্থাপত্যশৈলী নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক শংকরপাশা শাহী জামে মসজিদ। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মজলিশ আমিন ১৪৯৩ সালে হবিগঞ্জের উচাইল এলাকায় ৬ একর জমির ওপর এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৫১৩ সালে গিয়ে শেষ হয় এর কাজ। সে হিসাবে মসজিদের বয়স ৫০০ বছরেরও বেশি।

পরবর্তীতে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ রাজত্ব ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলে কালের বিবর্তনে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা ঘন অরণ্যে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় পর এলাকায় জনবসতি গড়ে ওঠে। এ সময় জঙ্গল পরিষ্কার করে ফসলি জমি তৈরি করতে গিয়ে মসজিদটি আবিষ্কার হয়। গভীর জঙ্গল থেকে আবিষ্কৃত হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ হিসেবে পরিচিত।

মসজিদের পাশেই রয়েছে স্থপতি মজলিশ আমিনের মাজার। ঐতিহাসিক এ মসজিদটি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসেন।

প্রায় ৩০ বছর আগে ঐতিহাসিক এ মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পায় সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। তবে দুই বছর আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি অযুখানা নির্মাণ ছাড়া দৃশ্যত মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে কোনো কাজ চোখে পড়েনি স্থানীয়দের। বর্তমানে মসজিদটিতে প্রতিদিন অন্তত ৫ শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।

মসজিদ ভবনটি একটি একচালা বিশিষ্ট প্রাচীন পাকা ভবন। ভবনটি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই মাপের, যা ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি। এতে চারটি গম্বুজ রয়েছে। মূল ভবনের উপর রয়েছে একটি বিশাল আকৃতির গম্বুজ। বারান্দার উপর রয়েছে তিনটি ছোট গম্বুজ। মসজিদটিতে মোট ১৫টি দরজা ও জানালা রয়েছে যা পরস্পর সমান আকৃতির। মোট ৬টি কারুকার্য শোভিত স্তম্ভ রয়েছে। উপরের ছাদ আর প্রধান প্রাচীরের কার্নিশ তৈরি হয়েছে বাঁকানো ধনুক আকৃতির।

মনোমুগ্ধকর কারুকাজ সমৃদ্ধ মসজিদটির দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী দেখার মতো। পোড়া মাটির তৈরি নান্দনিক কারুকাজ ও অসাধারণ নির্মাণশৈলী আধুনিকতাকেও হার মানায়। এ সমস্থ পোড়া মাটির নকশা কাটা অসংখ্য ফলক ইমারতের দেয়ালে সাঁটানো হয়েছে। দেয়ালের বহিরাংশে পোড়া মাটির বিভিন্ন নকশা এবং অলঙ্করণ সহজেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে।

মসজিদটি গভীর জঙ্গল থেকে আবিষ্কৃত হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে এটি গায়েবি মসজিদ হিসেবে পরিচিত। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল এলাকায় ৬ একর ভূমির ওপর কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন মসজিদটি।

 

শংকরপাশা শাহী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাসুক তালুকদার জানান, হস্তান্তরের ৩০ বছরেও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কোনো উন্নয়ন করেনি। আবার ব্যক্তিগত উদ্যোগ উন্নয়নে বিধি নিষেধ রয়েছে সরকারের।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

All Rights Reserved ©2024