শুক্রবার, ৩১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গাছেরও প্রাণ আছে শুনছেনা কেউ গাছের কান্না!

শিব্বির আহমদঃ  সকল জীব চলাফেরা করতে পারে, কেবল গাছ চলাফেরা করতে পারেনা। তাই বলে কি গাছের জীবন নেই? গাছ শব্দ করে কথা বলতে পারেনা, কিন্তু কাঁদতে পারে। জীবের সাথে উদ্ভিদ বা গাছের এটাই পার্থক্য। পৃথিবীর শেষ্ঠ জীব মানুষ কিন্তু গাছের কান্নাও শুনেনা!

গাছ ছাড়া জীব বাঁচেনা, এটা জানলেও মানছে না কেউ। প্রতিনিয়তই বৃক্ষ নিধন চলছে। এখানে বৃক্ষ নিধনের কথা বলছিনা, আমি গাছের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার কথা বলছি। মানুষ মানুষের ব্যথা বুঝেনা, গাছের ব্যথা কি করে বুঝবে? গাছ- জীবের নিঃশেষিত কার্বোনডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং জীবকে অক্সিজেন দেয়। উদ্ভিদ বা গাছের সাথে সর্ম্পক নিবিড়। গাছেরও প্রাণ আছে, এ নিয়ে কাউকে বোঝানোর দরকার হয়না। অথচ এ সত্য কথাটি প্রমাণে বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুকে অনেক সাধনা করতে হয়েছিল। তিনিই প্রথম বিশ্ববাসীকে প্রমান করে ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলেন, গাছেরও প্রাণ আছে।

সিলেটের বিশ্বনাথের সড়ক-মহাসড়ক, হাট-বাজার ও শিক্ষা-প্রতিষ্টানের সামনে ছোটবড় প্রতিটি গাছে নির্মমভাবে লোহা এবং বড় বড় পেরেক গাছে ঠুকিয়ে টানানো হয় নানা রঙ বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন অনুমোধনবিহীন কোচিং সেন্টার, বেসরকারি স্কুল-কলেজের প্রচারে ও ‘কাজী অফিস’, ‘পাত্র/পাত্রী চাই’, ‘সর্বরোগের মহাঔষধ’, ইত্যাদি জাতীয় ফেস্টুন-সাইনবোর্ড দিয়ে অখ্যাত-বিখ্যাতদের সস্তা বিজ্ঞাপন প্রচারে এমন নির্দয়ভাবে ক্ষত-বিক্ষত করা হচ্ছে গাছগুলোকে।

বেশিরভাগই ‘শিক্ষাদানের’ আগ্রহ দেখিয়ে ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রচারনায় অবিচার করা হচ্ছে ছোট বড় গাছগুলোর প্রতি। গায়ে আলপিন/পেরেক মারার কারণে গাছে ছিদ্র তৈরি হয়। তা দিয়ে পানি ঢোঁকে ও এর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পোকামাঁকড় ঢোঁকে। এতে গাছের ওই জায়গায় দ্রুত পচন ধরে, এতে রাস্তার পাশের হাজার হাজার টাকা মুল্যের গাছগুলোর যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।

সবুজ প্রকৃতির অস্তিত্ব সংকট দিন দিন বাড়ছে। পরিবেশকে মানুষের বাঁচার উপযোগী রাখতে সবুজায়নের জন্য নানা আন্দোলন-কর্মসূচি চলে আসছে। কিন্তু কোনো আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে গাছে গাছে লোহা/পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রতিযোগিতায় ধ্বংস করা হচ্ছে জীবন্ত গাছগুলোকে। শুধু তাই নয়, যেসব সড়কে খাটো খুঁটি দিয়ে বিদ্যুতের লাইন রয়েছে সে সব সড়কের পাশে থাকা গাছগুলো বিদ্যুতের লাইনের অজুহাতে গাছের মূল অংশ কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে অধিকাংশ গাছ। যেন দেখার কেউ নেই!

বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, একটি গাছও সুস্থ অবস্থায় নেই। গাছের ডালপালা মাথা নেই, শিকড়ে মাটি নেই, ঝড় তুফানে বিভিন্ন সড়কে প্রায় ৬মাস পূর্বে যেসব গাছ মাটিতে পুঁতেছিল সেগুলো হয় চুরেরা কেটে নিচ্ছে না হয় মাঠিতে ফেলা অবস্থায় রয়েছে। অথচ, দেশে বনায়নের জন্য প্রত্যেক উপজেলায় বন কর্মকর্তা রয়েছে। সর্বত্র যেন ‘সরকার কা মাল দরিয়া মে ঢাল’, এমনি অবস্থায় চলছে। বিশ্বনাথে এমনিতেই বনভূমির পরিমান একেবারেই কম তারপরও সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে যে পরিমান বৃক্ষ রোপন করা হয় সেগুলির জীবন রক্ষা করা যাচ্ছেনা ব্যানার, ফেস্টুন ও সাইনবোর্ডের কারণে। কেউ কখনও গাছের ক্ষতির বিষয়টি মনে করছেনা। কিন্তু দেশ বাঁচাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উদ্বিদের জীবন বাঁচানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম জানান, গাছে গাছে পেরেক/লোহা মারার ফলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হচ্ছে। গাছে পেরেক মারার কারনে গাছের ক্ষতি হয়, গাছে লোহা মারা ঠিন নয়। এ ধরনের প্রচার প্রচারনা বন্ধ করা উচিত বলে মনে করেন। পেরেক/লোহা মারার কারনে এমনকি অনেক গাছ মরে যাচ্ছে। গাছে পেরেক/লোহা মারা বন্ধ করে লোহা/পেরেক থেকে গাছকে মুক্ত করতে হবে। বন বিভাগকে এব্যাপারে এগিয়ে এসে সচেতন নাগরিকদের নিয়ে সম্মলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা  উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক নুসরাত জাহান বলেন, গাছের মধ্যে পেরেক মারা ঠিক নয়, তবে এ বিষয়ে তিনি দেখবেন বলে জানান। আইনিভাবে নিষেদাজ্ঞা থাকলেও কেউ মানছে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

All Rights Reserved ©2024