বুধবার, ২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

জন্মনিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে রোলমডেল

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সাফল্যে বিশ্বের রোল মডেল এখন বাংলাদেশ।যার মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়েই বড় অর্জন হয়েছে।পরিসংখ্যান বলেছে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিলো ২.৬৪ শতাংশ যা বর্তমানে ১.৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্বের কোনো দেশের পক্ষেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এতটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়নি, যা বাংলাদেশ পারলো।বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের জন্মলগ্নের পর থেকেই সরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নিয়ে আসছে।তবে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্য লাভের পরপরই ১৯৭৫ সালে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার জন্মনিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়। তারই ধারাবাহিতকায় সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাধ্যনে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কর্মসূচি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের সংস্থাগুলো পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এ বিষয়ে একযোগে কাজ করেছে, সে কারণেই এই সাফল্য।ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট, দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলেও ভালো, একটি সন্তান হলে, এখনি আরেকটি নয় এমন নানা ধরনের শ্লোগান ছিলো যা দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়।এবং একই সঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।এই প্রচারাভিযানেও বাংলাদেশ যতটা সাফল্য দেখাতে পেরেছে, বিশ্বের আর কোনো দেশ ততটা পারেনি, এমনটাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।সে কারণে, বিশ্বের অনেক দেশ এখন বাংলাদেশের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ও নীতিমালা অনুসরণ করছে।পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য মধ্যে, ১৯৭৫ সালে দেশের মাত্র ৮ শতাংশ দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতেন।যারা ২০০০ সালে এসে দাঁড়ায় ৫৪ শতাংশে। আর ২০১১ সালে ৬১.২ শতাংশে। বর্তমানে দেশের ৬৩.১ শতাংশ দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে অভ্যস্ত।এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ৬৩.১ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ৬১.১ শতাংশ।তবে দেশে এখনো ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ৫৯ শতাংশ মেয়েদের। আর ১৫ বছরের আগে বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে ১৮.১ শতাংশ মেয়েরা।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে উদ্ধৃত করে বাসসের খবরে বলা হয়েছে, দেশে ১৯৯৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মা ও শিশু স্বাস্থ্যে উন্নয়নে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে।২৫ বছর আগেও গর্ভবতী নারীর ৮ শতাংশ গর্ভাবস্থায় মারা যেতো, যার সংখ্যা এখন তার অর্ধেকরও নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। মন্ত্রীর মতে, এই খাতে বাংলাদেশ উল্লখযোগ্য সাফল্য নিশ্চিত করে এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়েছে।পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ বলেছেন, শিশুর জন্ম দেওয়া যে কোনো দম্পতির জন্য মানবাধিকার। সরকার চায় প্রতিটি দম্পতিই তাদের সন্তান জন্মদেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিক, তবে তা যেনো অবশ্যই পরিকল্পনামাফিক হয়।সরকার এখন দেশে দম্পতিদের মধ্যে আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার ৭০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যনিয়ে কাজ করছে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

All Rights Reserved ©2024