বুধবার, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ড. ইউনূস—পিটার হাস বৈঠক নিয়ে তোলপাড়

নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়েও বেশি আতংক ছিল আওয়ামী লীগের এবং সরকারের আমেরিকার রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে নিয়ে। পিটার হাস মুখ খুললেই খবর হতো, দূতাবাস বা বাসভবন থেকে বের হলেই খবর হতো। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হয়ে গেল। নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতকে দিয়ে শেখ হাসিনা ‘ম্যানেজ’ করেন আমেরিকাকে ও রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে। যদিও আমেরিকাকে বাগে আনতে পারলে তার রাষ্ট্রদূতকেও সম্ভব। হঠাৎ এ সপ্তাহে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস তার বাসভবনে আমন্ত্রণ জানালেন ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে। সেখানে ড. ইউনুস অবস্থান করেন ঘন্টা দুয়েক। তার সাথে ছিলেন গ্রামীণ শিক্ষা কর্মসূচীর প্রধান নূরজাহান বেগম। আর কেউ ছিলেন কিনা, কিংবা সেই নৈশভোজে কী আলোচনা বা কথাবার্তা হয়েছে কিছুই জানা যায়নি। ফলে আওয়ামী লীগ এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে এই দুই ব্যক্তি নিয়ে যারা আগ্রহী তাদের মধ্যে আলোড়নের সৃষ্টি হয়। আলোড়ন হওয়ার কারণও রয়েছে। সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনুস আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এবং ডয়েশে ভ্যালিসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত শ্রম আইন লংঘনের মামলাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ বিষয়ে ঢাকার সংবাদমাধ্যমে খবর হয়েছে। সেই খবরটি এখানে ছাপা হলোঃ দুর্নীতি, অর্থ—আত্মসাৎ এবং শ্রমিক ঠকানোর অভিযোগ থেকে বাঁচার জন্য ড. ইউনূস মরিয়া চেষ্টা করছেন। একদিকে যেমন তিনি গণতন্ত্র নেই বলে চিৎকার করছেন অন্যদিকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশগুলোকে সরকারের বিরুদ্ধে সক্রিয় করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এরকম প্রচেষ্টাগুলো ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। ড. ইউনূস যখন সরকারের সরাসরি সমালোচনা করছেন ঠিক এরকম মুহূর্তেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের সাথে নৈশভোজে অংশ নেন শান্তিতে নোবেল জয়ী এই অর্থনীতিবিদ।

গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ড. মুহাম্মদ ইউনুস পিটার হাসের বাসভবনে যান। এসময় গ্রামীণ শিক্ষা কর্মসূচির প্রধান নূরজাহান বেগম উপস্থিত ছিলেন তার সাথে। উল্লেখ্য, ড. ইউনূস যে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় দন্ডিত হয়েছেন সে মামলায় নূরজাহান বেগমও দন্ডিত হয়েছেন। অর্থ পাচারের মামলাতেও ড. ইউনূসের সাথে নূর জাহান বেগম অভিযুক্ত।

বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত ড. ইউনূস পিটার হাসের বাসভবনে ছিলেন। এখানে ড. ইউনূসের সৌজন্যে পিটার হাস নৈশভোজের আয়োজন করেন এবং এসময়ে ড. ইউনূস, পিটার হাস ও নূরজাহান বেগম ছাড়া অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন কিনা তা জানা যায় নি।

সাম্প্রতিক সময়ে ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ত্রিমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছেন। প্রথমত, তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদাগার করছেন। যেকোন তদন্তাধীন বিষয়া নিয়ে মন্তব্য করাটা আদালত অবমাননা বা তদন্তকে বাধাগ্রস্থ করার সামিল। কিন্তু ড. ইউনূস সেই কাজটিই করছেন। তিনি ডয়েচে ভেলে—তে, সিএনএন—এ এবং একাধিক দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন বলছেন। তদন্তের আগে এই ধরনের বক্তব্য দেওয়াটা কতটা যুক্তিসঙ্গত সে প্রশ্ন উঠতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ড. ইউনূস যে প্রচেষ্টাটি নিয়েছেন তা হলো সরকারের সমালোচনা করা। দেশে গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্র আজ বন্দী, সকলকে ঐক্য বদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করা উচিত এরকম বক্তব্য দিচ্ছেন ড. ইউনূস। এর মাধ্যমে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য এক ধরনের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। ধারণা করা যাচ্ছে যে, ড. ইউনূসের পাশে যেন বিরোধী দলগুলো দাঁড়ায় সেজন্য ইউনূস রাজনৈতিক একটি অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং এ রাজনৈতিক অবস্থানটি সরকারের বিরুদ্ধে।

তৃতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে সেজন্য তিনি মার্কিন প্রভাব বলয়ের মধ্যে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন এবং সরকার তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ওপর অসন্তুষ্ট এরকম একটি বক্তব্য প্রচার করে তিনি মামলার গ্রহণযোগ্যতা এবং মামলার মেরিটকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।

ড. ইউনূসের এই প্রচেষ্টার অংশ হিসাবেই তিনি পিটার হাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কিনা সেটি নিয়ে রাজনৈতিক বিভিন্ন মহলে আলোচনা করছে। যদিও ড. ইউনূস বা মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই নৈশভোজের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া হয়নি। তবে ড. ইউনূস সবসময় যখন বিপদে পড়েন তখন মার্কিন সাহায্য চান এবং দেশের স্বার্থ বিকিয়ে এবং দেশের ক্ষতি করে যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে সহযোগিতা করেন এরকম একটি আবদার করেন।

এর আগে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে তাকে হটিয়ে দেয়া হলে তিনি হিলারি ক্লিনটনের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন এবং এই যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, হিলারি ক্লিনটনের চিঠির কারণেই বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে এসেছিল এবং সে চিঠি দেওয়ার ক্ষেত্রে ড. ইউনূস প্ররোচনা দিয়েছিলেন। এখন পিটার হাসের সাথে বৈঠকের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউনূস ইস্যুতে সরকারের ওপর নতুন কোন চাপ দেয় কিনা সেটিই দেখার বিষয়।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

All Rights Reserved ©2024