বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

‘বিরোধী দলের অবস্থান হারাতে পারে জাতীয় পার্টি’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ১১টি আসনে জয়লাভ করেছে জাতীয় পার্টি। ইতোমধ্যে দলটির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন না। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের বিরোধীদল কারা হবে এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে।

এই আলোচনার মধ্যেই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানালেন, এবারের নির্বাচনে ৬২টি আসনে জয়লাভ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। চাইলে তারাই জোট গঠন করে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের অবস্থান নিতে পারেন। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে এ নিয়ে সাংবাদিদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা যদি মনে করে আওয়ামী লীগে বা তার নিজ দলে না থেকে তারা নিজস্ব একটা গ্রুপ করবেন। অবশ্যই এটা তারা করতে পারেন। এটা করে তারা বিরোধী দলের অবস্থানে যেতে পারেন।’

আনিসুল হক বলেন, ‘বিরোধীদল হতে যতগুলো নির্বাচিত আসন দরকার আমার মনে হয় সেই স্বীকৃতি পেতে স্বতন্ত্রদের যথেষ্ট সিট রয়েছে। তারা ৬২টি সিট পেয়েছেন। শপথের পরেই পরিষ্কার হবে স্বতন্ত্রদের অবস্থান কী হবে। এই স্বতন্ত্রদের অবস্থান ঘোষিত হওয়ার পর বোঝা যাবে, বিরোধী দলে কারা থাকবে।

অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের; তাহলে কি আওয়ামী লীগ বিরোধী দলও হবে? জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যখন তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তখন তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী বা প্রতীক নিয়ে অংশ নেননি। তারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করেছেন, তাদের প্রতীক ভিন্ন ছিল। তারা স্বতন্ত্র হিসেবেই নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা র্মাকায় তারা নির্বাচন করেননি। নৌকা মার্কায় যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সকলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। এখন যদি কেউ স্বতন্ত্রদের আওয়ামী লীগ বলে থাকেন তাহলে সেটা মুখের কথা। আইনের কথা কিংবা বাস্তবতা হলো, তারা স্বতন্ত্র থেকেই জয়ী হয়েছেন।’

আনিসুল হক বলেন, ‘বুধবার (১০ জানুয়ারি) নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে নতুন সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন এবং এই আমন্ত্রণ জানানোর পরে নতুন সরকার গঠন করবেন। রীতি অনুযায়ী শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন সরকার গঠন করা হয়। এবারও হয়তো সেভাবে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নতুন সংসদ সদস্যদের একটা গেজেট করবেন। এর পরই সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। সেখানে একটা সময় সীমা দেওয়া থাকে যে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সে শপথ নিতে হয়। এখন সেই প্রক্রিয়া চলছে।’

নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক কয়েকটি মাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় বলেছি, জনগণের অংশগ্রহণেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। এই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়েছে। সেজন্য আমরা বলব, বাস্তবচিত্র দেখেছি। এই নির্বাচন অংশগ্রহলমূলক হয়েছে। যেটা জনগণ স্বীকৃতি দিয়েছে। এর পর আর কারও স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।’

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  

All Rights Reserved ©2024