বুধবার, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ভূমিকম্প থেকে শিক্ষাগ্রহণ জরুরি

পৃথিবীতে যখন জুলুম-নির্যাতন, অন্যায়-অবিচার, পাপাচার বেহায়াপনা, অশ্লীলতা ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন মহান আল্লাহ মানবজাতিকে ভূমিকম্পসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বালা-মুসিবত দিয়ে সতর্ক করে থাকেন। যাতে করে মানবজাতি পাপাচার, অবিচার, অন্যায়-অপরাধ বর্জন করে দীনের পথে ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ! নিজ প্রতিপালকের (ক্রোধকে) ভয় করো। জেনে রেখো, কেয়ামতের প্রকম্পন এক সাংঘাতিক জিনিস।’-সুরা হজ : ১

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কি আসমানওয়ালার থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদের ভূমিতে ধসিয়ে দেবেন না, যখন তা হঠাৎ থরথর করে কাঁপতে থাকবে? নাকি তোমরা আসমানওয়ালা হতে নিশ্চিত হয়ে গেছো এ ব্যাপারে যে, তিনি তোমাদের ওপর পাথর-বৃষ্টি বর্ষণ করবেন না, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী?’ -সুরা মুলক : ১৬-১৭

এ ছাড়া আরও অনেক আয়াতে ভূমিকম্প প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এসব আয়াতের দ্বারা বোঝা যায়, মানুষ দুনিয়ার জীবনে যে ব্যাপক বালা-মুসিবতের সম্মুখীন হয়, যেমন দুর্ভিক্ষ, মহামারী, ভূমিকম্প, ভূমিধস, শত্রুর আগ্রাসন, জালিমের আধিপত্য, ইত্যাদি, এসবের প্রকৃত কারণ ব্যাপকভাবে আল্লাহর হুকুম-আহকাম অমান্য ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়া। এভাবে এসব বিপদ-আপদ মানুষের আপন হাতের কামাই হয়ে থাকে। আল্লাহতায়ালা মানুষের ওপর এসব বালা-মুসিবত, বিপদ-আপদ এজন্য চাপিয়ে দেন, যাতে করে মানুষের মন নরম হয় দুষ্কর্ম থেকে, পাপাচার থেকে বিরত থাকে।

ভূমিকম্প প্রসঙ্গে দীর্ঘ এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মানুষ গনিমতকে (যুদ্ধলব্ধ) ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করতে থাকবে, আমানতের সম্পদ গনিমত মনে করতে থাকবে, জাকাতকে জরিমানা মনে করবে, ধর্মবিবর্জিত শিক্ষার প্রচলন হবে, পুরুষ স্ত্রীর আনুগত্য করবে, কিন্তু নিজ মায়ের অবাধ্য হবে, বন্ধুবান্ধবকে কাছে টানবে, কিন্তু পিতাকে দূরে ঠেলে দিবে, মসজিদে হট্টগোল বেড়ে যাবে, পাপাচারীরা গোত্রের নেতা হবে, নিকৃষ্ট লোক সমাজের কর্তা হবে, মানুষের অনিষ্টতার ভয়ে তাকে সম্মান করা হবে, গায়িকা-নর্তকি ও বাদ্যযন্ত্রের বিস্তার ঘটবে, মদপান করা হবে, উম্মতের শেষ জামানার লোকেরা পূর্ববর্তী মনীষীদের অভিসম্পাত করবে, তখন তোমরা অগ্নি, বায়ু, ভূমিধস, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি, পাথর বর্ষণের এবং আরও কেয়ামতের আলামতসমূহের অপেক্ষা করতে থাকো। তখন একের পর এক বালা-মুসিবত আপতিত হবে। যেমন মালা খুলে গেলে একের পর এক পুঁতি ঝরতে থাকে।’-মেশকাত : ৫৪৪০

ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক যেকোনো দুর্যোগের সময় প্রত্যেক মুসলমানের আন্তরিকভাবে মহান আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি সেসব জনপদবাসী ইমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী থেকে কল্যাণধারা মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা (সত্য) প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং তারা ক্রমাগত যা করে যাচ্ছিল, তার পরিণামে আমি তাদের পাকড়াও করি।’-সুরা আরাফ : ৯৬

তাই যখন কোথাও ভূমিকম্প হয়, অথবা সূর্যগ্রহণ কিংবা ঝড়ো বাতাস বা বন্যা হয়, সবার উচিত তওবা করে মহান আল্লাহর কাছে নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা। আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা। সেই সঙ্গে নফল নামাজে দাঁড়িয়ে যাওয়া এ ব্যাপারে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত হুযাইফা (রা.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে যখনই কোনো বিষয় চিন্তিত করে তুলত, তিনি নফল নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।’-সুনানে আবু দাউদ : ১৩১৯

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

All Rights Reserved ©2024