সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মিনু-বাদশার চা-চক্রের খবরে রাজশাহীজুড়ে তোলপাড়!

রাজশাহীর একটি হোটেলে গত শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু চা-চক্রে বসার খবরে রাজশাহীতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যায় তারা রাজশাহীর তিন তারকা ‘হোটেল এক্স’-এর প্যানোরোমা ক্যাফেতে বসে কফিও খেয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপি নেতা এমন খবরকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘এটি জাস্ট ফালতু তথ্য’।

জানতে চাইলে ফজলে হোসেন বাদশাকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে কথা না বলেই মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে তিনি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে তার কোনো বৈঠক হয়নি। তবে তিনকর্মীকে নিয়ে চা খেতে গিয়ে মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। তিনি (মিনু) তার পরিবারের জন্য খাবার কিনতে এসেছিলেন। তাকে (বাদশা) সালাম দিলেন, এতটুকুই।

জানতে চাইলে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার সম্প্রতি দেখা হয়নি। যারা এমন খবর ছড়াচ্ছে তারা জাস্ট ফালতু কথা বলেছে। সেই দুই আড়াই মাস আগে প্লেনে দেখা হয়েছিল। রাস্তায় দেখা সাক্ষাৎ হলে সেটি আলাদা ব্যাপার। আমি হোটেল এক্স গিয়ে তার সঙ্গে চা-কফি খাব অসম্ভব ব্যাপার।’

তবে আর কদিন পরই জাতীয় নির্বাচন। সঙ্গত কারণেই ভোটের আগে এই দুই নেতার চা-চক্র নিয়ে নানা আলোচনা চলছে রাজশাহী শহরে। জানতে চাইলে হোটেল এক্স-এর ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা জানান, গত শনিবার সন্ধ্যার আগে ফজলে হোসেন বাদশা এসেছিলেন। পরে আসেন সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। তারা একসঙ্গে বসে কফি পান করেন।

উল্লেখ্য, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু ২০০১ সালের নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় ২০০২ সালের রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা। পরে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়ে মিনুকে পরাজিত করেন বাদশা। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি প্রত্যাখ্যান করলে বাদশা নির্বাচিত হন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা মিনুকে পরাজিত করেন বাদশা। এবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, মিনুও প্রার্থী হননি।

তবে গত ৩টি নির্বাচনের মতো আসন্ন ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও রাজশাহী-২ আসনে ১৪ দলীয় জোটের হয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন ফজলে হোসেন বাদশা। এবার নৌকা পেলেও তার স্বস্তি নেই। এখানে কাঁচি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা। এ আসনে জোটের শরিক জাসদেরও মশাল প্রতীকের প্রার্থী রয়েছে। নগর আওয়ামী লীগ রীতিমতো সভা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশাকে সমর্থন দিয়েছে। ফলে কিছুটা বেকায়দায় আছেন ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতা ফজলে হোসেন বাদশা।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

All Rights Reserved ©2024