বুধবার, ২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে ৪০ দেশের ভোট

কে বলে বিশ্বের গণতন্ত্র গোল্লায় গেছে? আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈশ্বিক জিডিপির একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্বকারী এসব দেশের বিশ্ব জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই ফলাফলের ওপরেই নির্ভর করছে একবিংশ শতকে এসে কে বা কারা নিয়ন্ত্রণের হাল ধরবে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতের মতো শক্তিশালী দেশের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল দক্ষিণ সুদান, স্বৈরাচারী রাশিয়া, ইরান এবং চাপের মধ্যে থাকা তাইওয়ান, ইউক্রেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিছু নির্বাচন হবে উন্মুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু আবার কিছু ক্ষেত্রে কারচুপিরও সম্ভাবনা আছে। তবে এই ভোটের ফলাফলের দিকে সারা বিশ্বের নজর থাকবে।

এই ভোট-উৎসব ঠিক এমন সময়ে শুরু হচ্ছে যখন চীনের শি জিন পিংয়ের কর্তৃত্ববাদী কমিউনিস্ট শাসন শক্তি নিয়ে এগোচ্ছে, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, হাঙ্গেরির ভিক্টর ওরবানের মতো ডানপন্থিরা তাদের প্রভাব বিস্তার করছে।

মার্কিন ওয়াচডগ ফ্রিডম হাউজ চলতি বছরের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলছে, টানা ১৭ বছর যাবত বৈশ্বিক স্বাধীনতার সূচক হ্রাসমান। মস্কোর আগ্রাসন ইউক্রেনে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তিউনিসিয়া, পেরু, ব্রাজিলের অবস্থা অস্থিতিশীল। গিনি, তুরস্ক, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের জনগণের স্বাধীনতাকেও দমন করা হচ্ছে। ৩৫টি দেশে রাজনৈতিক অধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতা হ্রাস পেয়েছে, ৩৪টি সামগ্রিক  ইতিবাচক ধারা দেখা গিয়েছে।

প্রতিবেদনে চীন, রাশিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ইরানের শাসনের সমালোচনা করে দেশগুলোর শাসনকাঠামোকে কর্তৃত্ববাদের মডেল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চার শর্ত হিসেবে আবশ্যক মূলনীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আক্রমণের মুখে।

ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের অধিকারসংক্রান্ত প্রচারক জ্যাকব ম্যাকাঙ্গামা বলেন, উদার গণতান্ত্রিক দেশগুলো অপতথ্য, উগ্রবাদ ও জনশৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।

ব্যালট বাক্সের লড়াইয়ের প্রভাব রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর কমবেশি আসবে। এতে করে অস্থিতিশীল বিশ্ব আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। ভালো বা খারাপ যেকোন একটা হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ ইরানের কথা বলা যায়। দেশটির পিতৃতান্ত্রিক নারীবিদ্বেষী রক্ষণশীল প্রশাসন আগামী মার্চের নির্বাচনে ক্ষমতায় হারালে তা দেশটির জন্য ইতিবাচক হবে। তবে তা হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ দেশটির ইসলামি বিপ্লবের সমর্থক প্রশাসন এরই মধ্যে বিরোধীদের ২৫ শতাংশ প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছে। আবার মিসরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি যেভাবে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দিলেন তা আগামী বছর অনেক দেশেই  তা দেখা যেতে পারে। এবার হংকং এর নির্বাচনে মাত্র ২৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এর আগে চীন হংকং এর নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার আগে সেই হার ছিল ৭১ শতাংশ।

তবে ২০২৪ সালের সবচেয়ে অর্থহীন বা উদ্দেশ্যহীন নির্বাচন হতে যাচ্ছে সম্ভবত রাশিয়ায়। এর পরে আছে বেলারুশ।  আবার অনেক নির্বাচন টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দুই দেশেই নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৪ সালে।  আবার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আবারও কেন্দ্রে ক্ষমতা দখল করতে পারে। তবে ২৮ দলীয় বিরোধী জোটের কারণে মোদির আশা ভঙ্গ হতে পারে।

এদিকে তাইওয়ানের নির্বাচনে চীনপন্থি নেতার জয় হয়, নাকি ক্ষমতাসীন স্বাধীনতাপন্থি দলই ক্ষমতায় ফিরে আসে তা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নির্ধারণ হবে।

আবার দক্ষিণ আফ্রিকায় নব্বইয়ের দশক থেকে ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এনএনসি) এবার ব্যাপক চাপের মুখে। তাদের হারাতে জোট বেঁধেছে বিরোধীরা। অন্যদিকে  ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেও নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।

অন্যদিকে মার্কিন ভোটাররা ট্রাম্পকে ফিরিয়ে আনতে কী পরিবর্তন নিয়ে আসে তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছে বিশ্ব। আবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নির্বাচনী পরীক্ষা দিতে হবে। যদিও গাজা ইস্যুতে তার পদত্যাগের দাবি উঠছে এখনই। আবার আগামী বছরের জুনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচনও  বৈশ্বিক রাজনীতিতে  প্রভাব ফেলবে। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

All Rights Reserved ©2024