বুধবার, ২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সুরের সাথেই হোক আগামীর বসবাস: লাভলী দেব

নিজস্ব ডেস্কঃ বিশ্ব জুড়ে বাউল সুরে – এই কথাগুলোই মননে ধারণ করে মাছরাঙা টেলিভিশন এর ম্যাজিক বাউলিয়ানা’র অডিশন রাউন্ড শেষ হলো। দেশীয় লোকগানের এই টেলিভিশন রিয়েলিটি শো’র অডিশন রাউন্ডের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেন দেশীয় লোকগানের বিশিষ্ট শিল্পী লাভলী দেব।

সিলেটে অঞ্চলের লোকগান দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসা অত্যন্ত বিনয়ী কন্ঠতারকা লাভলী দেব বলেন, আমি এই রিয়েলিটি শো’র ক্ষুদ্র একটা অংশ ছিলাম। এই প্রতিযোগিতায় যেহেতু শুধুই বাংলা লোকগান উপস্থাপন করতে হয়। আর আমারও পছন্দের বিষয় লোকগান। তাই এখনকার সময়ের “লোকগান” নিয়ে আমার নিজের কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে।

সারাদেশে মোট ৮ জোনে ভাগ করা হয় অডিশন এর জন্য। সেখানেই অনেক অনেক ছেলে – মেয়ের গান শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি নির্বাচক হিসেবে কাজ করার ভালো দিকগুলো নিয়ে আগে বলছি।

নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনকার বাচ্চারা নিঃসন্দেহে (প্রতিযোগী ছেলে মেয়েরা) অনেক ভদ্র, রুচিশীল এবং প্রতিভাবান। এখন পর্যন্ত কোনও বেয়াদব বা ঘাড় ত্যাড়া স্বভাবের কাউকে দেখিনি। তারা যথেষ্ট পরিশীলিতভাবে, ধৈর্য সহকারে, নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে কিছু কিছু অসাধারণ প্রতিভাবান ছেলে – মেয়েদেরকে পেয়েছি আমরা।

এক্ষেত্রে কিছু কষ্টকর অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও জানান লাভলী দেব। তিনি এই বিষয়ে বলেন, যে কথাগুলো আমার কষ্ট হচ্ছে বলতে, সেগুলো হলো – বেশির ভাগ বাচ্চাই গান চর্চা করে না। তারা গীতিকার/সুরকার এর নাম জানে না। এমনকী মহাজনদের গানকে অন্তরে ধারণা করে গাইবার চেষ্টা করে না। আসলে এই ব্যর্থতাগুলো কার ? ওদের ? নাকি কিছুটা হলেও আমাদের ? আমাদের পরের প্রজন্মের কাছে আমাদের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি আমরা কি ওদেরকে সঠিকভাবে গান পৌঁছে দিতে ব্যর্থ ? নাকি আমাদের অনুজরা সঠিকভাবে গান শিখতে ব্যর্থ ?
তবে লাভলী দেব প্রচণ্ড রকমের আশাবাদী একজন সংগীতশিল্পী। তাই তিনি এই বিষয়ে বলেন, সব সময়ই আশাবাদী মানুষের দলে। কখনোই আমি আশা ছাড়ি না। আমার বিশ্বাস আমাদের ছেলে – মেয়েরা অবশ্যই পারবে। এই পর্যন্ত আমরা অনেক ভালো ভালো শিল্পী পেয়েছি, যারা অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন।

সবশেষে হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিম, রধরমনসহ সিলেট অঞ্চলের সকল মরমী গীতিকারের গান নিয়ে বাংলাদেশ, ইউরোপ ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মঞ্চমাতানো শিল্পী লাভলী দেব বলেন, আসলে সংগীত এক অকুল সমুদ্র।তাই এর শেখার শেষ নাই। এই জন্যেই গুরুমুখী বিদ্যা সংগীতকে আয়ত্ব করতে গুরু বা ওস্তাদের কাছে গিয়ে শেখা আর চর্চা করাটা খুবই জরুরী। মনে রাখতে হবে – যত বেশী অনুশীলন ততবেশী মুগ্ধতা ছড়াবে সুর আর কণ্ঠে। আমি সব সময়ের মতোই এবারও চাই – সুরের সাথেই হোক সবার আগামীর বসবাস।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

All Rights Reserved ©2024