বুধবার, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

স্বার্থপর, দেশ বিধ্বংসী সকল বিভক্তির অবসান হোক

          লেখক: সারওয়ার চৌধুরী (যুক্তরাষ্ট্র)

আমরা পুরুষ মহিলায়, ধর্মে ধর্মে বিভক্তি টানি, বৈষম্য করি। জেলায় জেলায়, পাড়া মহল্লায় এমনকি বাড়িতে বাড়িতে, আত্মীয়ে আত্মীয়েও চলে দৃশ্য অদৃশ্য হিংসাত্বক বিভক্তি, বৈষম্য।

অন্যধর্মের সাথে বিভক্তি করার পর আমরা বিভক্তি টানি নিজ ধর্মের মধ্যে। খুব ছোট বেলায় দেখতাম যোয়াল্লিন দোয়াল্লিন বিভক্তি, সাধারণ শিক্ষা মাদ্রাসা শিক্ষার বিভক্তি, আলীয়া কওমী বিভক্তি, ব্রাম্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, কায়স্থ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বিভক্তি, এগুলো কিন্তু এই একুশ শতকে এসেও এখনো আমাদের মধ্যে প্রকটরূপে বিরাজমান। কেউ কেউ আবার নিজেদেরকে সুশীল দাবী করে অঘোষিতভাবে অন্যদেরকে কুশীল হিসেবে চিহ্নিত করে গর্ববোধ করেন, ভদ্রতার খোলসে ঘৃণিত বৈষম্য করেন।

আমরা বাঙালিরা কেন জানি বিভক্ত হয়ে থাকা খুব পছন্দ করি, যেকোন বিষয়েই আমরা খুব সহজে বিভক্ত হয়ে পড়ি, সেটা যদি মৃত্যুর বিনিময়ে হয় তবুও পরোয়া করি না।

বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত এবং উদ্বেগপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হচ্ছে আওয়ামী লীগ, বি এন পি কিংবা জামাত হেফাজতের নামে অলিখিত রাজনৈতিক বিভক্তি, রাজনৈতিক বৈষম্য। এটা এমন এক বিভক্তি, এমন এক হিংসাত্বক বৈষম্য যেখানে একজন অন্যজনকে কুপিয়ে টুকরো টুকরো করে দিতেও পিছ’পা হয় না। এমনকি কতশত ত্যাগ তীতিক্ষার বিনিময়ে, আত্মীয় স্বজন, আপনজনকে ছেড়ে সুদূর প্রবাসে এসেও আমরা এই ঘৃণিত, জগণ্য বিভক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি না।

আর এরকম বিভক্তি করে, বৈষম্যের রেখা টেনে একটা শ্রেণি বারবার ফায়দা লুটে, সুবিধা নেয়, এই স্বার্থপর শ্রেণি আবার নিজেদের প্রয়োজনে মুহূর্তেই জোট বাঁধে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়, আমরাও তাদের আপন বলে বুকে টেনে নিই।

আমরা নির্বোধ আবেগী সাধারণ মানুষেরা তাদের স্বার্থপরতা চিন্তা চেতনা বুঝি না, বুঝতে চাই না- সমস্যা কিন্তু এখানেই। তাই দেশ ও জাতির বৃহৎ কল্যাণে, উন্নয়নে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে আমাদেরকে অবশ্যই আধুনিক ধ্যান ধারণা চর্চার পাশাপাশি সকল হীন বৈষম্য বিভক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

All Rights Reserved ©2024