জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় জোটের সবচেয়ে বড় দল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না, পরিবার ও গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করতে চাই না। এই দেশে আর কোনো জমিদারি চলবে না। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে কুড়িগ্রামে সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনকে বুকে নিয়ে এগিয়ে যাব। জুলাই আন্দোলনে মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছিল। কামানের সামনে দাঁড়িয়ে কলিজার টুকরা এক মেয়ে বলেছিল, পেছনে পুলিশ, সামনে স্বাধীনতা। স্বাধীনতাকে বেছে নিয়েছি, প্রয়োজনে জীবন দেব। এরাই আমাদের শক্তি জুগিয়েছিল। অথচ মায়েদের যেখানে এত অবদান, সেখানে একটি দল ও লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী তাদের গায়ে হাত দিচ্ছে।
জামায়াত আমির বলেন, চার দিন আগে আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা-তা চালানো হয়েছে। আর একটি দল তাইরে-নাইরে বলে ঝাঁপিয়া পড়েছে। লজ্জা, ওদের চুনুপুটিসহ বড় বড় নেতারাও গান গাওযা শুরু করল। আমাদের সাইবার টিম তাদের শক্তভাবে ধরে ফেলেছে। অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য ঢাকা থাকে না।
এ সময় জুলাইযোদ্ধ আবু সাইদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলের আবু সাইদ বলেছিল, বুকের ভেতরে তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। সে গুলি পিঠে নেয় নাই, তিন-তিনটি গুলি বুকে নিয়েছিল। এটাই বীরত্বের পরিচয়। এখান থেকে জুলাই আন্দোলন জ্বলে উঠেছিল। আপনারা বড়ই সৌভাগ্যবান।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, আধিপত্যের বাদের বিরুদ্ধে আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে আবরার ফাহাদ প্রথমে শাহাদৎবরণ করেছিল। তার রাস্তা ধরে আবু সাইদের মৃত্যু। সেই রাস্তা ধরে তাদের সহযোদ্ধা হয়েছে শরিফ ওসমান হাদি। একে একে তারা ১৪০০ জন শহীদ হয়েছে। এই ১৪০০ বীরের লাশ এখন এই জাতির ঘাড়ে। এসব বীরের রক্ত আমাদের নদীগুলো লাল করে দিয়েছে। আমরা এই বীরদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করব না।
তিনি বলেন, তিস্তা পাড় থেকে এই বিজয় শুরু হয়েছে। সারা বাংলায় এখন মুক্তির গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এতে দেশের মেযেরাই আমাদের শক্তি জুগিয়েছিল।
নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি, আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা-বোনদের সম্মান করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বঞ্চিত জেলা কুড়িগ্রাম উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এখান থেকে আমাদের উন্নয়ন শুরু হবে। এই জেলাকে উত্তরবঙ্গের রাজধানীতে পরিণত করা হবে। কৃষিবিপ্লব হলে সবাই কাজ পাবে।