
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়ে দুদিন ধরে ককটেলবাজি অব্যাহত রেখেছে। চরবাগডাঙা এলাকায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ককটেলবাজিদের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে আইনি ব্যবস্থা।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি নুরুল হক, চরবাগডাঙা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি উমর আলী, ইউপি সদস্য জুয়েল রেজা, ঢাকার শাজাহানপুরে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলার আসামি আব্দুল লতিফ চাঁপাইনবাবগঞ্জে আত্মগোপনে থেকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রায়ই দিনই ককটেলবাজি অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে এবং সন্ধ্যা নামলেই ককটেলবাজি করছে। এতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে চরবাগডাঙাসহ আশপাশের এলাকায়।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, ককটেল ফাটাচ্ছে আওয়ামী লীগের লোকজন আর আসামি হচ্ছে নিরীহ সাধারণ মানুষ। এসব ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নেয়ামত আলী বলেন, সারা দেশে যখন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ধরতে অপারেশর ডেভিল হান্ট পরিচালনা হচ্ছে, ঠিক সে সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগের লোকজন প্রকাশ্যে মিটিং করে ককটেলবাজি ও অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে। বারবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্টো সম্প্রতি একটি ককটেলবাজির ঘটনায় নিরীহ মানুষকে আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। তার দাবি, পুলিশকে ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগের নেতারা।
এদিকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগ নেতারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ক্রাইম অ্যান্ড অপস্ এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ককটেল ফাটানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা সংগঠিত হয়ে ককটেলবাজি করছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিষয়টিকে পলিটিক্যাল বলে আখ্যায়িত করেন।