
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে সশস্ত্র মোটরসাইকেল বাহিনীর হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা নারী ও শিশুদের অপহরণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
আল-জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বোক্কুয়ুম এলাকার টুঙ্গান দুতসে গ্রামে দেড় শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। তারা বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গ্রামবাসীদের জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এই হামলা শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলতে থাকে।
বোক্কুয়ুম সাউথের এমপি হামিসু এ ফারু বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ফোনে জানান, তারা এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে…অন্তত ৫০ জনকে মৃত পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, কতজনকে অপহরণ করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, হামলার আগে সতর্ক সংকেত পাওয়া গিয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহি সানি (৪১) বলেন, এক দিন আগে ১৫০টির বেশি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র ব্যক্তিদের ঘোরাফেরা করতে দেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, হামলায় আমার পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। গতকাল কেউ ঘুমাতে পারেনি, আমরা সবাই শোকাহত।
নাইজেরিয়ার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র অপরাধচক্র ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক। গত সপ্তাহেই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাইজার রাজ্যের বোরগু এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হন। কনকোসো গ্রামে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৩৮ জনকে গুলি করে বা গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বেড়েছে
চলমান সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের হত্যাকাণ্ড বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়িয়েছে।
গত ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সোকোটো রাজ্যে নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বিমান হামলা চালায়। এ সপ্তাহে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে ১০০ মার্কিন সেনা সদস্য দেশে পৌঁছেছেন।
দেশটির প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের মুখপাত্র সামাইলা উবা জানান, মার্কিন সেনারা প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করবে, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেবে। তবে তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না; নাইজেরীয় কমান্ডের অধীনেই কাজ করবে।