দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদেরকে পেছনে রেখে আমরা কোনোভাবেই সামনে এগোতে পারব না বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, নারীদের আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। সে কারণে খেটে-খাওয়া প্রত্যেক গৃহিণীর কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যার মাধ্যমে প্রতি মাসে তাদের সরকারের পক্ষ থেকে একটি সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
এ সময় তারেক রহমান বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫ জেলার ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত এদের আপনারা দেখে রাখবেন, ১৩ তারিখ থেকে এদের কাজ হচ্ছে আপনাদের দেখে রাখা। আপনাদের সমর্থন ছাড়া তারা কিন্তু কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে পারবেন না।
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালে আমাদের ছাত্র জনতারা রাজপথে আন্দোলন করে স্বৈরাচারকে বিদায়ের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে। এখন মানুষের ভোটের অধিকার, মানুষের কথা বলার অধিকার, যেটি আমরা ফিরে পেয়েছি, এটিকে কিন্তু ধরে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। এই ষড়যন্ত্র যারা করছে, জনগণ তাদের গুপ্ত নামে ডাকে। কারণ, জনগণ দেখেছে কখনো সময় হয় এদিক, আবার কখনো সময় হয় ওদিক! তাদের এই রূপের পরিবর্তন হয়। এদের যে শুধু রূপের পরিবর্তন হয় তাই না, জনগণকে তারা কীভাবে অপমান করে তাও দেখেন!
তারেক রহমান বলেন, গুপ্তর দলের প্রধান, তিনি এ দেশের খেটে খাওয়া মা-বোনদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর একটি কথা বলেছেন, তা আপনারা দেখেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যেই রাজনৈতিক দলের প্রধান দেশের খেটে খাওয়া মা-বোনদের সম্পর্কে এমন নোংরা চিন্তা করে থাকেন, তাদের কাছ থেকে কি আমরা ভালো কিছু আশা করতে পারি? তাদের কাছ থেকে আমরা ভালো কিছু আশা করতে পারি না। এটির প্রমাণ আমরা ৭১ সালেও দেখেছি। ৭১ সালে তাদের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য এ দেশের লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি হয়েছিল। এদের কাছ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা মুখে বলে এক কথা আর কাজে করে আরেক কথা।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে গড়ার জন্য বিএনপির একটি পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জনগণেরও একটি পরিকল্পনা থাকা দরকার। সেই পরিকল্পনা হলো ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়ী করা। কারণ, দেশকে গড়ে তোলার জন্য যে কথা আমরা বলেছি, জনগণের সমর্থন ছাড়া কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন করতে আমরা পারব না।
এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমান জনসভাস্থলে আসেন। তিনি বরিশাল থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে ফরিদপুর স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাডে অবতরণ করার পর শামা ওবায়েদসহ নেতারা তাকে স্বাগত জানান।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসার সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম, শরিয়তপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী নূরউদ্দিন অপু, ফরিদপুর-৩ আসনের প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।