শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

পাকিস্তানের অর্থনীতি স্থিতিশীলতার পথে, কমছে বিদ্যুতের দাম

বাসাবাড়ি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম কমাচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলেছে, বিদ্যুতের দাম কমানোর বিষয়টি পাকিস্তানের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।২০২২ সালে ভয়াবহ মন্দার কবলে পড়ে ইসলামাবাদ। একটা সময় দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে গিয়ে ঠেকে। পাকিস্তানের অর্থনীতিকে রক্ষায় ২০২৩ সালে এগিয়ে আসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এরপর গত বছর ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয় সংস্থাটি। আইএমএফের ঋণ পেতে হলে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্যের ভর্তুকি বন্ধ করে দিতে হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, এমন শর্ত থাকা সাপেক্ষেও বিদ্যুতের দাম কমাতে আইএমএফকে রাজি করাতে সমর্থ হয়েছেন তারা। যদিও এজন্য কষ্ট করতে হয়েছে।শেহবাজ বলেন, “দাম কমাতে কী কষ্ট করতে হয়েছে আমি তা প্রকাশ করতে পারব না। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের চালানো সংস্কার সফল হওয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে। সংস্কার চলতে থাকবে।”

 

এছাড়া বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কমায় পাকিস্তানের যে অর্থ সাশ্রয় হয়েছে সেগুলো বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন শেহবাজ।গত তিন বছর পাকিস্তানে বিদ্যুতের দাম কয়েক দফা শুধু বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু এবারই দাম কমতে যাচ্ছে। যা গ্রাহকদের কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে।

 

বাসা-বাড়ির লাইনে বিদ্যুতের দাম প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৭ দশমিক ৪১ রুপি কমে ৩৪ দশমিক ৪৭ রুপিতে নামবে। অপরদিকে শিল্প লাইনগুলোর বিদ্যুতের দাম প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ৭ দশমিক ৫৯ রুপি কমে ৪০ দশমিক ৬০ রুপি হবে।

 

পাকিস্তানের ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি একটা সময় বেশ টালমাটাল হয়ে পড়েছিল। ২০২৩ সালের মে মাসে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল। দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক। আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এতটাই কমেছিল যে সেগুলো দিয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। এছাড়া দেশটিতে ব্যাংকের সুদের হার ২২ শতাংশে লাফ দিয়েছিল। বর্তমানে পাকিস্তানে প্রায় ২৮১ রুপি দিয়ে এক মার্কিন ডলার পাওয়া যায়।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০