
পাক-আফগান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।
মার্কিন সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি এক্সে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ‘সংলাপ সহজতর’ করতে সাহায্য করতে প্রস্তুত ইরান।
তিনি দুই দেশকে ভালো প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করতে বলেন। একইসঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানান।
সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইরান এর আগেও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এরপর পাকিস্তানের বিমানবাহিনী হামলা শুরু করে। এর ফলে আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার প্রদেশে একটি প্রধান গোলাবারুদ ডিপো ধ্বংস হয়েছে।
শুক্রবার পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় আফগান তালেবান সরকারের ১৩৩ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ২০০ জন আহত হন।
আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেছেন, চার ঘণ্টাব্যাপী চলা যুদ্ধ স্থানীয় সময় মধ্যরাতে থামে। সংঘাতে আটজন আফগান সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, সংঘর্ষে তাদের দুই সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে আরেকজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পাকিস্তানের হামলায় ৭২ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিদেশি গণমাধ্যমের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেছেন, ১২০ জনেরও বেশি আফগান আহত হয়েছেন। তার দাবি—পাকিস্তানের হামলায় ১৬টি আফগান সামরিক চৌকি ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া সাতটি আফগান সামরিক চৌকি দখল করেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র আনাদোলুর কাছে এক বিবৃতিতে বলেছে, আফগান আগ্রাসনের জবাবে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কাবুল, কান্দাহার, পাকতিয়া এবং নাঙ্গাহার প্রদেশে এ বিমান হামলা চালানো হয়।