ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া তার দলের নারীকর্মীদের লক্ষ্য করে হেনস্তা ও হামলা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পুরো নির্বাচনী মাঠ পরিকল্পিতভাবে অসম করে রাখা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের জোর করে রাজনৈতিক সভায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এবং রাতের আঁধারে তার পোস্টার ও বিলবোর্ড খুলে ফেলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রচারণায় সক্রিয় নারীকর্মীদের ওপর সরাসরি হেনস্তা ও হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে প্ল্যানের কথা আগে উল্লেখ করেছিলেন, জামায়াত আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক করার ঘটনাও সেই পরিকল্পনারই অংশ।
বঙ্গভবন স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাদের প্রচারণা চালাতে দেওয়া হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের চেষ্টাও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
গণমাধ্যম নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, মিডিয়া হাউসগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশ না হয়।
তার দাবি, প্রশাসন ও গণমাধ্যম কার্যত একপক্ষীয় ভূমিকা নিচ্ছে, ফলে নির্বাচনের জন্য কোনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চোখ কি বন্ধ? দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইসি শুরুতেই গোল দিয়ে দিলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ভোট দেবে?’
নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরও বিএনপির কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব হয়নি। নির্বাচিত হলে ঢাকা–৮ আসনের স্কুলগুলোতে ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করা হবে, এলাকাকে মাদকমুক্ত করা হবে এবং কাঁচাবাজার আধুনিক মাল্টি–কমপ্লেক্সে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হকারদের লাইসেন্স দেওয়া, কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানজট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।