সোমবার, ৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক চাইলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট
ক্রিকেটকে বিদায় বললেন শফিউল
পূর্বাচলে পুলিশের মেগা প্রজেক্টের পরিকল্পনা, সৃষ্টি হচ্ছে ৬ হাজার পদ
নেত্রকোনায় ২৩০ বছরের প্রাচীন তিন গম্বুজ মসজিদ
সারাদেশে শুরু হচ্ছে যৌথবাহিনীর অভিযান
সেন্টমাটিনে নৌবাহিনীর অভিযান, ১০ দালালসহ ২৭৩ ভিকটিম উদ্ধার
তারেক রহমান দু’এক দিনের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান পদে আসছেন: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশ না গেলে কী হবে? আইসিসির সামনে কঠিন তিন পথ
এবার মেক্সিকো কলম্বিয়া ও কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে মাচাদোকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে: ট্রাম্প

বাংলাদেশ না গেলে কী হবে? আইসিসির সামনে কঠিন তিন পথ

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের দাবির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে বিপাকে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।

এই ঘটনার কারণেই ফেব্রুয়ারি-মার্চে যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারত যেতে চায় না বাংলাদেশ। আনুষ্ঠানিকভাবে এমনটি জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এই সংকট মোকাবিলায় আইসিসির সামনে বাস্তবসম্মত তিনটি পথ খোলা আছে, আর সময়ই নির্ধারণ করবে কোন পথে হাঁটবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

প্রথম পথ—সমঝোতা

আইসিসি চাইলে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় সরিয়ে নিতে পারে। এতে ২০ দলের টুর্নামেন্ট কাঠামো অক্ষুণ্ন থাকবে, সূচির বড় ধরনের ক্ষতিও হবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই সিদ্ধান্তে পুরো বিতর্কটি লজিস্টিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে।

দ্বিতীয় পথ—‘অ্যাওয়ার্ডেড ম্যাচ’

যদি আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন নাকচ করে দেয় তাহলে নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচগুলো বাংলাদেশের প্রতিপক্ষদের পক্ষে ‘অ্যাওয়ার্ড’ করে দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশ মাঠে না নেমেই ম্যাচ ও পয়েন্ট হারাবে, কার্যত বিশ্বকাপে তাদের অভিযান সেখানেই শেষ হয়ে যাবে।

তৃতীয় পথ—পূর্ণ প্রত্যাহার

সবচেয়ে চরম পরিস্থিতি হবে বাংলাদেশ পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ালে। তখন আইসিসিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ফরফিট হিসেবে ধরা হবে, নাকি শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বাংলাদেশ না থাকলে কে আসতে পারে?

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিকল্প দল নির্ধারণের জন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় ‘রিজার্ভ তালিকা’ নেই। ফলে প্রতিস্থাপন হলে সেটি হবে আইসিসির বিবেচনাধীন সিদ্ধান্ত।

এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় স্কটল্যান্ড। তারা অভিজ্ঞ সহযোগী দেশ, দ্রুত প্রস্তুত হওয়ার সক্ষমতা আছে এবং অতীতেও এমন নজির রয়েছে। ২০০৯ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে সরে দাঁড়ালে স্কটল্যান্ডই তাদের জায়গা নিয়েছিল।

তবে একটি জটিলতা আছে। ২০২৬ সালের ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে স্কটল্যান্ড শীর্ষে ছিল না। নেদারল্যান্ডস ও ইতালি সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করেছে, আর স্কটল্যান্ডের ওপরে ছিল জার্সি। ফলে যোগ্যতার ভিত্তিকে প্রাধান্য দিলে জার্সি ও বিকল্প হিসেবে সামনে আসতে পারে।

এই পুরো পরিস্থিতি আসলে আইসিসির শাসনব্যবস্থার বড় পরীক্ষা। একদিকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, অন্যদিকে আয়োজক দেশের দায়বদ্ধতা, আর তৃতীয়ত—ভবিষ্যতের নজির। একবার যদি কোনো দল সূচি ঘোষণার পর ভেন্যু নিয়ে অনড় অবস্থান নেয়, ভবিষ্যতে অন্য দলগুলিও একই পথ নিতে পারে।

বাংলাদেশ আপাতত ভেন্যু বদলের আবেদন জানিয়েছে। সেটি কি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহারে রূপ নেবে, নাকি আইসিসি সমঝোতার পথে হাঁটবে—তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এই সংকট বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি করে দিয়েছে।

শেয়ার করুনঃ