রবিবার, ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বোরকা পরে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে : মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, বোরকা ব্যবহার করে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে হবে। বোরকাকে আমরা শ্রদ্ধা করি, আমার মা বোরকা পরতেন। কিন্তু বোরকা পরে জাল ভোট দিতে এলে আমরা তা সহ্য করবো না।শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনে আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারে হজ এজেন্সি, রিক্রুটিং এজেন্সি ও ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

দেশ ও জাতি বর্তমানে একটি অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, ভালো আছি না খারাপ আছি এটা একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। আমার ব্যাখ্যা হলো, হাসিনার সময় আমরা যে অবস্থায় ছিলাম, এখন সে অবস্থায় নেই। এক জায়গায় ভালো আছি যে, পুলিশ এখন আর উপদ্রব করে না। এই একটি দিক ছাড়া অন্য কোনো দিক থেকে আমরা ভালো নেই।হাসিনার পালিয়ে যাওয়া বা তাড়ানোর কৃতিত্ব দেশের জনগণের বলে উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, হাসিনা-পরবর্তী সময়ে মানুষ যতটা ভালো থাকার আশা করেছিল, বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। এখন ভালো থাকতে হলে আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে জয়যুক্ত করতে হবে।মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের মানুষ স্বস্তিতে নেই, শান্তিতে নেই; বরং এক ধরনের অস্বস্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বহু যুদ্ধ, রক্ত এবং ত্যাগের বিনিময়ে জনগণ এই নির্বাচন আদায় করেছে। এই নির্বাচন কেউ আমাদের দান করেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যেমন দান করা হয়নি, তেমনি ভোটের অধিকারও দান করা হয়নি।

 

তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন ২৪ তারিখে সবকিছু হয়ে গেছে। তাহলে প্রশ্ন হলো ১৭ বছর আমরা কী করেছি? এই ১৭ বছরে পাঁচ হাজার কর্মী গুম হয়েছেন, চার হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন, বছরের পর বছর আমরা জেল খেটেছি। আমরা আপনাদের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করেছি।

 

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বয়স মানেই অচল হয়ে যাওয়া নয়; বরং অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য সম্পদ। অভিজ্ঞ মানুষদের কথা কাজে না লাগালে নতুন প্রজন্ম জীবনে কিছু করতে পারবে না- এটাই বাস্তবতা।

 

এলাকায় নিজের দীর্ঘদিনের পরিচিতির কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস জানান, এই এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষ, ধনী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীরা তাকে চেনেন।

 

তিনি বলেন, এই শহরের কোনো ব্যবসায়ী বলতে পারবেন না যে, কোনো স্বার্থের জন্য আমাকে এক কাপ চা খাওয়াতে পেরেছেন।

 

নির্বাচনী কৌশল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নির্বাচন ও ভোট সংগ্রহ। সমাবেশ ও মিছিল সহজ কাজ, কিন্তু ভোট জোগাড় করাই মূল কাজ। এ জন্য নেতা-কর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের বোঝানোর আহ্বান জানান তিনি।

 

ভোটের দিন সম্ভাব্য অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বোরকা ব্যবহার করে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে হবে। বোরকাকে আমরা শ্রদ্ধা করি, আমার মা বোরকা পরতেন। কিন্তু বোরকা পরে জাল ভোট দিতে আসা আমরা সহ্য করব না।

 

নির্বাচনের ফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল দিতে তিন দিন লাগবে- এই কথা আমরা মানতে পারি না। আগে সন্ধ্যার মধ্যেই ফল হয়ে যেত। এখন তিন দিন কেন লাগবে, কাকে জেতাতে চান?

 

তিনি বলেন, ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ফল প্রকাশে দেরি হলে অসৎ উদ্দেশ্য আছে বলে ধরে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টদের ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

 

বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো বন্ধ হয়নি বলেও অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনকে কেন্দ্র করে একটি অঘটন ঘটিয়ে নির্বাচন বন্ধ করার চেষ্টা থাকতে পারে। আমি অকথ্য গালাগাল সহ্য করে, মাটি কামড়ে কর্মীদের নিয়ে পড়ে আছি।

 

পরিচ্ছন্ন নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো ভালো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ এবারও একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেবে।

 

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সুযোগ পেলে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমস্যার কথা শুনে সেগুলোর সমাধানে কাজ করবেন।

শেয়ার করুনঃ