মঙ্গলবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মানুষের যে আমলে আল্লাহ বেশি খুশি হন

ইসতেগফার হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। এতে মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের জীবন সর্বাঙ্গীন সুন্দর ও সফল হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও দিনে ৭০ বারের বেশি ইসতেগফার করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি দিনের মধ্যে ৭০ বারের বেশি ইসতেগফার এবং তওবা করে থাকি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩০৭)

ইসতেগফার পাঠে আল্লাহ খুশি হন। বান্দার গুনাহ মাফ করেন। বিপদ দূর করেন। রিজিক বাড়িয়ে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে নিয়মিত ইসতেগফার পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে সব ধরনের বিপদাপদ থেকে মুক্ত করবেন। সব রকম দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা করবেন। তার জন্য এমন জায়গা থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারেন না।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫১৮)। কোরআন ও হাদিসে ইসতেগফারের অনেক বাক্য আছে। এখানে হাদিসে বর্ণিত পাঁচটি ইসতেগফার উল্লেখ করা হলো—

সংক্ষিপ্ত একটি ইসতেগফার
‘আসতাগফিরুল্লাহ’ একটি সংক্ষিপ্ত ইসতেগফার। এটি সকাল-সন্ধ্যা সবসময় পড়া যায়। সাওবান (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজ শেষে তিনবার ইসতেগফার (আসতাগফিরুল্লাহ) পড়তেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১২১২)। ওয়ালিদ (রহ.) বলেন, ‘আমি আওজায়ি (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইসতেগফার কিরূপ? তিনি বললেন, ‘আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ’ বলবে।

সংক্ষিপ্ত আরেকটি ইসতেগফার
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) প্রার্থনা করতেন—

বাংলা উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়া আতুব আলাইয়া ইন্নাকা আনতাত তাউয়াবুর রহিম।’

বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তওবা গ্রহণকারী ও পরম দয়ালু। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ২৯২)

 

গুনাহ মাফের ইসতেগফার
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঘুমাতে যাওয়ার আগে কেউ যদি এই দোয়াটি তিনবার পাঠ করে, তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা, গাছের পাতা, মরুভূমির ঘন বালুকারাশি, দুনিয়ার দিবসগুলোর মতো হলেও আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেবেন। দোয়াটি হলো—

বাংলা উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি, লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

বাংলা উচ্চারণ : আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি, সে আল্লাহর কাছে যিনি ছাড়া কোনো উপাসক নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আর আমি তার কাছে তওবা করছি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৯৭)

 

মৃত্যুর আগে নবীজির ইসতেগফার
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.)-কে আমার গায়ের ওপর হেলান দেওয়া অবস্থায় বলতে শুনেছি—বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াল হিকনি বির রফিকিল আলা।’ বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার প্রতি অনুগ্রহ কর। আর আমাকে মহান বন্ধুর সঙ্গে মিলিয়ে দাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২৭২)

সাইয়েদুল ইসতেগফার
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দিনের (সকাল) বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়বে, সে সন্ধ্যার আগে মারা গেলে জান্নাতি হবে। আর যে রাতের (প্রথম) বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দোয়া পড়বে, সে ভোর হওয়ার আগে মারা গেলে জান্নাতি হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৮৬৭)

সাইয়েদুল ইসতেগফারের বাংলা উচ্চারণ
‘আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাকতানি, ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা, ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি, ফাগফিরলি ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

সাইয়েদুল ইসতেগফারের বাংলা অর্থ
হে আল্লাহ, তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো উপাসক নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের ওপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ, তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারণ, তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।

শেয়ার করুনঃ