শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক শ্রেষ্ঠতম দিন

মুসলিম বিশ্বের কাছে সপ্তাহের সাতটি দিনের মধ্যে সবচেয়ে মহিমান্বিত ও বরকতময় দিন হলো পবিত্র জুমার দিন। ইসলামি শরিয়তে এই দিনটিকে ‘সব দিনের সরদার’ এবং গরিবের হজের দিন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার, সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর কাছে এটি একটি আধ্যাত্মিক সমাবেশের দিন।

সৃষ্টির ইতিহাসে জুমার গুরুত্ব

ইসলামিক ইতিহাস ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলা ছয় দিনে আসমান-জমিন ও সমস্ত জগৎ সৃষ্টি করেছেন। এই ছয় দিনের শেষ দিনটি ছিল জুমার দিন। এই দিনেই প্রথম মানব হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাঁকে জান্নাতে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়েছে। এমনকি কিয়ামতও এই জুমার দিনেই সংঘটিত হবে বলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর হাদিসে উল্লেখ আছে।

কুরআনের ঘোষণা ও গুরুত্ব

পবিত্র কুরআনের সূরা জুমায় আল্লাহ তাআলা সরাসরি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন,

“হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা দ্রুত আল্লাহর স্মরণের (নামাজের) দিকে ধাবিত হও এবং কেনাবেচা বন্ধ করো। এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পারতে।” (আয়াত: ৯)

বিশেষ ফজিলত ও সওয়াব

জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক জুমা থেকে অন্য জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের ছোটখাটো গোনাহগুলো আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। এমনকি কেউ যদি জুমার দিনে উত্তমরূপে গোসল করে সবার আগে মসজিদে যায় এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, তবে তার প্রতিটি কদমে এক বছরের নফল নামাজ ও রোজার সওয়াব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জুমার দিনের বিশেষ আমলসমূহ

ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই দিনটিতে বিশেষ কিছু আমল পালন করে থাকেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • উত্তমরূপে গোসল করা ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা।

  • সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করে আগেভাগে মসজিদে যাওয়া।

  • মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা (খুতবা চলাকালীন কথা বলা সম্পূর্ণ নিষেধ)।

  • বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।

  • পবিত্র কুরআনের সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা।

বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, জুমার দিনের শেষ প্রহরে (আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত) এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ কখনো ফিরিয়ে দেন না। তাই এই সময়ে ব্যক্তিগত ও দেশ-জাতির কল্যাণে দোয়া করা অত্যন্ত জরুরি।

শেয়ার করুনঃ