
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে দাম ১০০ ডলার ছুঁতে পারে।
তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রোববার (১ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজারের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএস-এর এনার্জি ও রিফাইনিং ডিরেক্টর অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলাগুলো তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখলেও আসল কারণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া।
প্রখ্যাত জ্বালানি গবেষণা সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জি জানিয়েছে, সোমবার (২ মার্চ) বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সংস্থাটির মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়াই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ওয়াশিংটনকে আগেই সতর্ক করেছিলেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে নিয়ে যেতে পারে। এদিকে ওপেক প্লাস গ্রুপ রোববার (১ মার্চ) জানিয়েছে, তারা এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়াবে। যা বৈশ্বিক চাহিদার ০.২ শতাংশেরও কম।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে ঢুকত যা বর্তমানে বন্ধ আছে। মধ্যপ্রাচ্যে তেলের বিকল্প অবকাঠামো ব্যবহার করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাজারে প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের নিট ঘাটতি থেকে যাবে।
তেলের দাম ২০ ডলার বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। এতে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।