মিশিগানে টেপের পানিতে বিপজ্জনক রাসায়নিকের ছড়াছড়ি, শুরু হয়েছে সীসা পাইপ প্রতিস্থাপনের কাজ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যে খাওয়ার পানিতে দূষণের বিষয়টি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। খাবার পানির মাধ্যমে সীসা এবং অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মিশিগানের ফ্লিন্টে ২৫ হাজারেররও বেশি মানুষ।

৯ হাজার ৬০০ জন লোকের শহর বেন্টন হারবারে কর্মকর্তারা জল পরীক্ষায় সীসার উচ্চ মাত্রার কারণে পানীয়, রান্না এবং দাঁত ব্রাশ করার জন্য বোতলজাত জল ব্যবহার করতেন। তারা গভর্নরের কাছে সীসা পাইপ প্রতিস্থাপন করার আহ্বান জানান।তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ৯ নভেম্বর থেকে বেন্টন হারবার শহরের সমস্ত সীসা পাইপ প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বেন্টন হারবারে খনন কাজ এই সপ্তাহে শুরু হয়েছে।

বেন্টন হারবারের বাসিন্দাদের ২০২৩ সালের এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত সীসা পাইপ প্রতিস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার। ৯ নভেম্বর থেকে বেন্টন হারবারে কিছু ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে সীসা জল লাইন অপসারণ শুরু হয়। গ্রেচেন হুইটমার সেই সম্পত্তিগুলো পরিদর্শন করেছেন।

সেখানে তিনি বেন্টন হারবারের জল সংকট থেকে মুক্তি পাবার জন্য, ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পাইপ প্রতিস্থাপনের কাজে স্বাক্ষর করার জন্য বাসিন্দাদের তাদের ভূমিকা পালন করতে অনুরোধ করছেন৷

বাসিন্দাদেরকে উদ্দেশ্য করে হুইটমার বলেন, “একটি জিনিস যা আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, বাড়ির মালিকরা যারা এই বাসস্থানগুলিতে থাকেন, তাদের সবাইকে স্বাক্ষর করতে হবে যাতে আমরা ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পাইপ লাইনগুলি প্রতিস্থাপন করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আমরা এখানে বেন্টন হারবারে প্রতিটি বাড়িতে পরিষ্কার জল পুনরুদ্ধার করার জন্য সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করছি তবে বিষয়টির সত্যতা হল বাড়ির মালিকদেরও স্বাক্ষর দিয়ে আমাদের সহায়তা করতে হবে।”

ইতিমধ্যে, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা বোতলজাত জল সরবরাহ করে চলেছেন, বেন্টন হারবার কমিউনিটি ওয়াটার কাউন্সিলের সভাপতি রেভারেন্ড এডওয়ার্ড পিঙ্কনি বলেন, “তিন বছর ধরে বেন্টন হারবার শহরে উচ্চ সীসার মাত্রা ছিল, ফ্লিন্টের চেয়ে বেশি, অন্য কারও চেয়ে বেশি। এটি কেবল একটি কালো শহর বলে এতোদিন সত্যিই কেউ পাত্তা দেয়নি,”

এজেন্সি বাড়ির মালিকদের জলের অধ্যয়নের একটি সিরিজে অংশ নেওয়ার জন্য খুঁজছে, যার মধ্যে একটি পরীক্ষা করবে যে জলের ফিল্টারগুলি সীসার মাত্রা কমাতে কার্যকর কিনা। এখনও পর্যন্ত ২৫ জন বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন, তবে তারা জানিয়েছেন আরও কয়েকশো স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে।