এজলাসে বিচারকের সঙ্গে অশালীন আচরণ, ১১শ বিজেএস ফোরামের নিন্দা ও প্রতিবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ ফারুক মহোদয় কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অশালীন আচরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে একাদশ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (১১শ বিজেএস) ফোরাম।

সংগঠনের সভাপতি ছগির আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আসমা জাহান সই করা গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২ জানুয়ারি বিচার চলাকালীন এজলাসে কতিপয় স্বার্থান্বেষী বিজ্ঞ আইনজীবী কর্তৃক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নারী ও শিশু নির্যতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মহোদয়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি, বিচারিক কাজে নগ্ন হস্থক্ষেপসহ আদালতে কর্মরত কর্মচারীদের মারধর ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার মত নিন্দনীয় কার্যক্রম সংঘটিত করেন। এতে বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং বিচার কার্য ব্যাহত হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নারী ও শিশু নির্যতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর মাননীয় বিচারক মহোদয়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি, বিচারিক কাজে নগ্ন হস্থক্ষেপসহ আদালতে কর্মরত-কর্মচারীদের মারধর ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার মত নিন্দনীয় কার্যক্রমে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই ঘটনায় ১১শ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস ফোরামের সদস্যগণসহ সকল পর্যায়ের বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

১১শ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস ফোরামের পক্ষ থেকে উক্ত ঘৃণ্য ও বর্বোরচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যে কোন প্রকার অত্যাচার, নিপীড়ন, পেশীশক্তির বিরুদ্ধে ১১শ বিজেএস ফোরাম বিচার অঙ্গনে কর্মরত মাননীয় বিচারক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশে আছে এবং থাকবে।

ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতে এবং এর সূত্রপাত গত ১ ডিসেম্বর। শীতকালীন ছুটির আগে সেদিন ছিল আদালতের শেষ কার্যদিবস। ওই দিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ ফারুকের আদালতে কয়েকজন আইনজীবী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকটি মামলা দাখিল করেন। কিন্তু দাখিলে বিলম্ব হওয়ার কারণে ওই আদালতের বিচারক মামলাগুলো গ্রহণ করেননি। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামলাগুলো নেওয়ার অনুরোধ করলেও বিচারক তা শোনেননি। পরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিচারককে মামলা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তখন বিচারক তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও আইনজীবীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আদালতের মধ্যেই কয়েকজন আইনজীবী একজন বিচারককে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং তাঁকে এজলাস থেকে নেমে যাওয়ার জন্য বলছেন। আদালতের এজলাসে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, ভিডিও ফুটেজটি না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এ ঘটনাকে শুধু কয়েকজন আইনজীবী এবং বিচারকের মধ্যে বিরোধ বা ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সার্বিকভাবে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।