কুমারীত্ব পরীক্ষা ও সতীচ্ছদ পর্দার সার্জারি নিষিদ্ধ করতে চায় ব্রিটেন

মিশিগান প্রতিদিন ডেস্কঃ অনেক সমাজে সতীচ্ছদ পর্দা না থাকাকে কুমারীত্ব না থাকা মনে করা হয়। ফলে সম্মানহানিকর বিষয় মনে করে তা পুনঃস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়। তাই পরীক্ষার মাধ্যমে কুমারীত্ব যাচাই-বাছাইয়ের এক ধরনের প্রক্রিয়াকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। হাইমেনোপ্লাস্টি নামের এ ধরনের কসমেটিক সার্জারি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রী গিলিয়ান কিগান বলেন, ‘আমাদের সরকার দেশের সব দুর্বল নারী ও মেয়েদের সুরক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে হাইমেনোপ্লাস্টি নামের এ অস্ত্রোপচার করা যায়। এতে খরচ হয় প্রায় তিন হাজার পাউন্ডের মতো। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, অন্তত ২০টি দেশে কুমারীত্ব পরীক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমে ‘হাইমেন’ অক্ষত আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়।

এ ধরনের অস্ত্রোপচারে ‘হাইমেন’ বা সতিচ্ছেদের পাতলা পর্দা পুনরায় তৈরি করা হয়। তা আংশিকভাবে যোনির প্রবেশপথকে ঢেকে রাখে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সতিচ্ছেদ পুনস্থাপনের উপায় হিসেবে তা করা হয়ে থাকে। অবশ্য হাইমেন বা সতিচ্ছেদের উপস্থিতি সহবাস হওয়ার নির্ভরযোগ্য লক্ষণ নয় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)।

দেখা গেছে, একজন নারীর সতিচ্ছেদ যেকোনো সাধারণ কারণেও ছিঁড়ে যেতে পারে। শুধুমাত্র যৌন মিলনের মাধ্যমে নয়। যেমন- খেলাধুলা বা দৌড়াদৌড়ির মাধ্যমেও তা ছিঁড়তে পারে। সাধারণত রক্ষণশীল সমাজে হাইমেনোপ্লাস্টি অস্ত্রোপচারের অনুশীলন দেখা যায়। কুমারীত্বকে মহামূল্যবান মনে করা হয় সেখানে। তাই সবার প্রত্যাশা থাকে যে, বিয়ের রাতে শারীরিক সম্পর্কের পর পর কুমারী নারীর রক্তপাত হবে।

গত বছর জুলাইয়ে যত দ্রুত সম্ভব হাইমেনোপ্লাস্টিকে নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়নের কথা জানায় ব্রিটেন সরকার। দেশটির স্বাস্থ্য বিলের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নারীর ইচ্ছা বা অনিচ্ছা যাই হোক, হাইমেনোপ্লাস্টি বেআইনি বলে গণ্য হবে। তাতে হাইমেনোপ্লাস্টি করা ব্যক্তির ‘সহায়তা বা প্ররোচনা’কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর ফলে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। সূত্রঃ বিবিসি।