পুরানো ফেলতে পারি না রে! বুকে যে বড্ড ব্যাথা লাগে!

              লেখকঃ অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান

পুরোনো ফেলতে পারি না রে!
ক’দিন আগে বড়ো মেয়ে এসেছিল। ছিল ক’দিন। ‘আচ্ছা বাবা, কিছু জিনিস তো ফেলতেই হবে! জমে যাচ্ছে!’

যাচ্ছে, জানি। পরিস্কার করাও যে নিয়মিত হয়, হয় না। ব্যবহার না! তবুও আছে। ফেলতে পারি না। তোর প্রথম স্কুলের সেই প্লাস্টিকের বাক্স, ভেতরে ক্লাস ওয়ানের খাতা, রিপোর্ট কার্ড। ফেলতে পারি না।

পারি না ফেলতে সেই তোর প্রথম মোজা কিনে এনেছিলাম বুঝতেই পারিনি এত্তো ছোটো পা। মোজা উঠে গেল হাঁটু ছাড়িয়ে। মায়ের কী রাগ। তখন তো ‘কিডস্ স্টোর’ ছিল না এই মফস্বলের শহরতলির বাজারে। উল পাওয়া যেত। কিনে আনল মা। তুই ঘুমোলে কাটায়-কাটায় বোনাবনি। আর তুই উঠলে হাতের আঙ্গুলের থাবায় উলের জাল। সেই মোজা, সেই প্রথম শোয়েটার আজও আছে ফেলতে পারি না।

পারি না পারি না ফেলতে হিমেল হাওয়ার ভোরে ঘাসের উপরে জমে থাকা শিশিবিন্দু, ঘুমঘোর চোখে – জাগো জাগো..মনে তোর সেদিনের কান্নার সুর ! ফেলতে পারি নারে মা !আমি যে বাঙালি হ্যাঁ বাঙালির ঘর-দোর জঞ্জালে ভর্তি। স্মৃতি-বিলাসী একটি মানুষ আমি বেঁচে থাকি, বেঁচে উঠি, এভাবে চলছে বছরের পর বছর; কিন্তু আর ক’দিন ই বা এভাবে পথচলা? যথোদিন থাকি স্মৃতিগুলো জমিয়ে রাখি, তাই ফেলতে পারি না রে…তোর সেই প্লাস্টিকের বাক্স,ভেতরে ক্লাস ওয়ানের খাতা আর রিপোর্ট কার্ভ!

এগুলো ভাবতে ভাবতে চোঁখের পাতা ভরে উঠে নোনাজলে কাল মানে আজ ভোর রাতে…
মা আমার মা.. রে……..!!