প্রেমের কবিতা

কবিঃ আফতাব মল্লিক

অনেক দিনের সাধ ছিল, একটা প্রেমের কবিতা লিখবো।
আর সেই প্রেমের কবিতায়,আমরা দুজন পাখি হব।
বাবুই পাখি।
ঐ যে নদীর পাড়ে – তালগাছে হবে আমাদের বাসা।
পাশের বড় অসত্থ গাছটাকে বলব –
ঘিরে রেখো আমাদের – যেন ঝড় না আসে।
রোজ সকালে উঠে, নদীর বয়ে যাওয়া দেখব-
কত স্নিগ্ধ জল !
ঠিক আমাদের স্বপ্ন গুলোর মত।
দখিন হাওয়া কে বলব-
ঘুরে যেও, মাঝে মাঝে আমাদের বাড়ি-
জমিয়ে গল্প করবো খুব।
দুপুর বেলা দূরের ওই দেবদারু গাছটা-
যখন তার লম্বা ডাল নেড়ে, শুভ দ্বিপ্রহর বলবে-
আমরাও বলব-
শুভেচ্ছা এক পৃথিবী তোমাকে ও।
খুব ভালো থেকো।
ঠিক তখন এক টুকরো ছোট্ট সাদা মেঘ
আমাদের গায়ে জল ছিটিয়ে বলবে
আর আমরা এখন পর হয়ে গেছি বুঝি-
তখন তুমি বলবে
ওমা! তা হবে কেন?
এই তো আমরা, কি গো ভালো আছো?
তোমাদের কখনো ভুলতে পারি?
আর নদীর জলে নুয়ে থাকা হিজলের ডালে বসা
মাছরাঙ্গা বলে উঠবে-
আমি আর আপন হলাম কবে?
কে আর আমার খোঁজ নিচ্ছে !
আমি তখন বলব-
তুমি কখন এলে? এসো এসো
এ কদিন দেখিনি তোমায়।
বিকেলে দূরের ওই সোনায় রাঙা সর্ষে ক্ষেতে বেড়াতে যাব –
তুমি একটা লাল প্রজাপতির পিছনে যে উড়ে যাবে-
আমি বলবো –
সাথী কি করছো? ধোরো না ওকে ?
বাসায় ওর ছোট ছোট বাচ্চা আছে?
কি হবে ওদের? ভেবেছ?
তুমি আমার কাছে ফিরে আসবে-
অনুতপ্তের রেখা তোমার মুখটাকে আরো উজ্জ্বল করে তুলবে।
রাতের বেলায় রুপোর চাঁদটা, আলোর মালা নিয়ে যখন হেঁটে যাবে নীল আকাশে-
সবাই অবাক হয়ে দেখবে তাকে
আর আমি বাসায় বসে ,জোনাকির আলোয় –
দেখবো তোমাকে ।
যাকে আমি হাজার বার দেখলেও, সারা জনম ধরে দেখলেও –
সাধ মিটবে না।
আমি চেয়ে রবো এক দৃষ্টিতে!
তুমি লজ্জায় আমার কোলে মুখ লুকিয়ে নেবে-
আমি আদরে ভরিয়ে দেবো তোমাকে –
আজ অনেক বছর পর খুঁজে পেয়েছি আমার লেখা সেই কবিতাটা।
আর সেই কবিতায়-
আমাদের সেই বাসাটাও আছে-
শুধু তুমি নেই !
আমি নদীর কাছে গিয়ে, নদীর স্নিগ্ধ জলে, অনেক করে খুঁজেছি -আমার সেই স্বপ্নগুলোকে –
সেই জলে আগের সেই স্নিগ্ধতা আর নেই !
ঘোলা জলে আবছা হয়ে গেছে সবকিছু !
আমার স্বপ্ন, আমার আশা , আমার জীবন –
সব !