যস্মিন কালে যদাচার

লেখকঃ সোনিয়া কাদির

 

দেশে থাকতে বাংলা কথায়, কিংবা নিজ আঞ্চলিক ভাষায় বলা কথার মধ‍্য কঠিন কঠিন ইংরেজি শব্দ ব‍্যবহার করতাম। এ দেশে আসার পর সে গর্ব মাটিতে গড়িয়ে পড়লো।
চারপাশে আমেরিকানরা কিংবা আমার নিজের নাতী নাতনীরা যখন তাদের ভাষায় ( ইংরেজি ) কথা বলে আমি এক্সপ্রেস 7 ট্রেনের ঝরঝরানী যাত্রার আওয়াজ শুনি আর হা হয়ে তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি । ” হআসআপ নানু ”
আমাদের স্কুল কলেজে ইংরেজি শিখা মানে – টানা মুখস্ত আর পরীক্ষায় ৩৩ বা তার ঊর্ধ্বে মার্কস্ পাওয়া । আমাদের শিখার চাইতে পরীক্ষা পাসের জন‍্য পড়া ছিল মূখ্য । ( আমাদের সময়ের কথা)
Essay writing .Letter writing অথবা Application writing আর বাংলা থেকে ইংরেজি translations ভাল করে মুখস্ত করে পরীক্ষার খাতায় হুবহু ঝেড়ে দিয়ে আসতে পারলেই মোটামুটি চিন্তাহীন , পরীক্ষার বৈতরণী পার হওয়া যেত।
A journey by boat
A journey by train
Aim in life
My school
my College
My village
Village market
Discipline &
The Cow is a four footed domestic animal —–
ইত্যাদি কয়েকটি , মুখস্ত শিখলেই Essay কে ইলাষ্টিকের মতো হাইস্কুল থেকে কলেজ পযর্ন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া যেত। আর
Application এর তিন অংশের মধ‍্য সারমর্ম অদল বদল হলে ও বাকি দুই অংশ , শুরু ও শেষ প্রায় একই
যেমন শুরু —-

Dear sir
I beg most respectively to you that ——–

শেষ —
Your most obedient pupil or student ,
বাংলা থেকে ইংরেজি Translation যেমন ——
ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগি মারা গেল
মানুষ মরণশীল
মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে, ইত্যাদি ধুমসে মুখস্ত করে আসা বিদ‍্যা ” বিসমিল্লাহ ” বলে লিখে দিতাম । ষ্টার মার্কস না হোক পাস মার্কস্ নিশ্চিত ।
আমেরিকানদের ইংরেজি , আর হাডসান, ইষ্ট রিভারের কত গল্প পড়েছি ; শুনেছি কিন্তু বলতে গেলেই তালগোল পাকিয়ে যায় । অগত‍্যা লাইব্রেরীতে E S L ক্লাসে ভর্তির পরিক্ষা দেই । আমার মুখস্ত বিদ‍্যার বলিহারি দেখে কতৃপক্ষ আমাকে Higher secondary ক্লাসে দিয়ে দেন। প্রথম দিকে Teacher , Lecture দেন আমি হা হয়ে তাকিয়ে থাকি । লিখতে পারি কিন্তু বলতে গিয়ে অতীত , বর্তমান , ভবিষ্যত Tense কে একটার স্থলে আরেকটি বলে ফেলি । আর উচ্চারণ — লাজে মরি মরি গো —–
সাবেক অর্থমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় সাইফুর রহমান সিলেটি উচ্চারণে ইংরেজি বলতেন তাতে অনেকেই হাসতো । এখানে Congressman Ruben Diaz তার নিজ অঞ্চলের উচ্চারণে ইংরেজি বলেন তা নিয়ে কেউ ট্রল করে না বা হাসি ঠাট্টা করে না। আমার আব্বা টেলিভিশন কে বলতেন ট‍্যালিভিশন, ইলেকট্রিক উচ্চারণ আমাদের কাছে লাগতো ল‍্যাথ্রিকের মত ।
stop এখানে উচ্চারণ ষ্টাপ ফিফটি ওয়ান এখানে ফিফটিফাষ্ট এমনি অনেক — অনেক।

ইংরেজ আমলে ইংরেজি ভাষা রপ্তকারি বাঙ্গালীদের নিয়ে মজার মজার কাহিনী পড়ি আর হাসতে হাসতে পেটে ব‍্যথা করে ফেলি ।
” স্বল্প ইংরেজি জানা ঝানু উকিল ইংরেজ ম‍্যাজিষ্টেটকে ” গাভী ” বুঝাতে পাশের মাঠ থেকে একটি ষাড় ধরে এনে বলেছিলেন
” গাভী ইজ হিজ ওয়াইফ স‍্যার ”
এক ফিরিঙ্গি সাহেব নাপিতের কাছে চুল কাটতে গেলে নাপিতের ক্ষুরের সামান্য আঘাতে ” ড‍্যাম বলে উঠে ।
নাপিত ক্ষেপে গিয়ে জানালো ” ড‍্যামের ” অর্থ না বলা পযর্ন্ত সে চুল কাটা বন্ধ রাখবে।
সেখানে উপস্থিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ‍্যাসাগর ব‍্যাপার সামাল দিতে বুদ্ধি করে বললেন ” ড‍্যাম মানে খুব ভালো ”
নাপিত ও সহজে ছাড়বার পাত্র নয় সে বললো —
” ড‍্যাম যদি ভাল হয় তবে আমি ড‍্যাম , আমার বাবা ড‍্যম আমার চৌদগোষ্টি ড‍্যাম আর যদি খারাপ হয় , ও ড‍্যাম, ওর বাবা ড‍্যাম ; ওর চৌদগোষ্টি ড‍্যাম , ব্রিটিশদের দেশ ড‍্যাম শুধু ড‍্যাম না – ড‍্যামড‍্যামাড‍্যামড‍্যাম “

ব্রিটিশ সময়ে ইংরেজ সিভিলিয়ানদের স্থানীয় ভাষা শিখা ছিল বাধ‍্যতামূলক । পাস করলে চাকুরীতে উন্নতি বেতন – ভাতা বাড়তো । তখন কৃষ্ণনগর কলেজের ইংরেজ অধ‍্যক্ষ ” ই লেথব্রিজ ” সাহেব নাকি বাংলায় পাস করে অনেক টাকা পুরষ্কার পেয়েছিলেন । তার বাংলা থেকে অনুবাদ করা একটি বাক‍্য ছিল বেশ রসালো । বাক‍্যটি ছিল —
” রাজা বিক্রমাদিত‍্যের দুই মহিষী ছিলেন।
তিনি ইংরেজি অনুবাদ করলেন —
” রাজা বিক্রমাদিত‍্যের দুটি মাদী মহিষ ( সি বাফলো ) ছিল।
বাংলা ভাষায় পারদর্শী এক ইংরেজ মহিলা বঙ্কিমচন্দ্রের, বিষবৃক্ষ , ইংরেজি অনুবাদ করে প্রচুর সুনাম অর্জন করেছিলেন , তিনি ও গোলাপউড়ের বাংলা অনুবাদ করেছিলেন ” জার্নি অব ফ্লাইং গোলাপ “