সাহিত্য যোদ্ধা কবি জালাল জয়

শিব্বির আহমদঃ অনেক মানুষ সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারে কিন্তু লিখতে পারেনা। আবার অনেকে লিখতে পারে কিন্তু সুন্দর করে কথা বলতে পারেনা। এ ক্ষেত্রে জালাল জয় সফল।

লেখালেখির প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় এই তরুণ লেখকের সাথে। ছাত্রজীবন থেকে সাহিত্যানুরাগী ছিলেন। নিজের তাগিদেই লেখালেখি করেন। চাকরি, সময়ের যে ব্যস্থতা, তাতেও যেন তার কলম থেমে নেই। এ প্রতিকুল পরিবেশে মাঝরাতেও তিনি সাহিত্যচর্চা করেন।

২০২০ সালে তার প্রথম কবিতার যে বইটি প্রকাশিত হয় সেটির নাম “লাল রিকশা”। তিনি জানান, করোনার জন্য মাঝে পারিবারিক ব্যস্ততায় সময় কেটেছে। এজন্য নতুন বইয়ের পাণ্ডুলিপি গোছানো যায়নি। এখন নতুন বইয়ের পরিকল্পনা করছেন তিনি।

জালাল জয় বলেন, আমি মূলত কবিতা ও ছড়া লিখি। লিখে আনন্দ পাই। করোনার কারণে মাঝে কিছুদিন লেখাতে তেমন সময় দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ে লিখেছি, সেই লেখা এখন একসঙ্গে করে দ্বিতীয় বইটি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমার প্রথম বইটি প্রকাশ করেছিল চৈতন্য। প্রথম বই প্রকাশের পর খুবই আনন্দ পেয়েছি। পাঠক যখন লেখা পড়ে প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটা অন্যরকম আনন্দ দেয়।

লেখালেখির পাশাপাশি সাহিত্য বিষয়ক সংগঠনের চর্চার সঙ্গেও যুক্ত এই তরুণ লেখক। তিনি বলেন, জগতের মহান ব্যক্তিরা সবাই বইপ্রেমী। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী বিল গেটস বছরে শতাধিক বই পড়েন। ওয়ারেন বাফেট প্রতিদিন একটি করে বই পড়েন।বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের সঙ্গী ছিল বই।সাহিত্যচর্চা আমাদের সৃজনশীলতা ও চিন্তাচেতনার জগৎকে পরিবর্তন করে। মুক্তবুদ্ধির চর্চার দ্বার উন্মুক্ত করে।

জালাল জয় আরো বলেন, সাহিত্য হলো আমাদের চোখের মতো ক্ষুদ্র অথচ চারপাশের সবকিছুকে বিশালাকারে দেখতে পায়। ফুল যেমন বাগানকে সুশোভিত করে, সাহিত্য তেমনি ভাষাকে অলংকৃত করে। সাহিত্য না থাকলে পৃথিবীতে এত গান, সুর, গল্প, কবিতা সৃষ্টি হতো না।

সাহিত্যচর্চা মানবমনকে জাগতিক ব্যস্ততা থেকে মুক্তি দান করে। মুক্ত আত্মাই কেবল শুদ্ধ চিন্তার মাধ্যমে সভ্যতার বাতিঘরে অতন্দ্র প্রহরী পৌঁছোতে পারে। সুতরাং, সাহিত্য পাঠের মূল্য জগতের যেকোন কিছুর বিচারে শ্রেষ্ঠ। লেখালেখি করছি, পাশাপাশি ‘লাল রিকশা এক্সপ্রেস’ নামেই ফেসবুকভিত্তিক সংগঠন করে সেখান থেকে সাহিত্য নিয়ে নানা রকম অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছি।

সিলেটে অনুষ্ঠিত সাহিত্য আসরে লেখকদের লেখা পাঠের আসর সম্প্রচার সহ সিলেটের লেখকদের নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র তৈরির কাজ করে যাচ্ছি নিয়মিত। আমি চাই প্রতিটি লেখকের কথা, লেখকের কন্ঠে লেখাপাঠ আগামী প্রজন্ম সার্চ দিলেই যেন দেখতে পারে পাশাপাশি লেখকদের অনুভূতিগুলো প্রামান্যচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পেরে আমার খুবই ভাল লাগে যা আত্নার খোরাগ মেটাতে সহযোগিতা করে, “লাল রিকশা এক্সপ্রেস ” শিল্পসাহিত্য, স্বাস্থ্যসেবা, আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ ও গণমানুষের ভাব প্রকাশের অন্যতম অনলাইন মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে একদিন।