সুর্যের দেশ ফ্লোরিডা আপনার স্বপ্নের বাস্তবতা

জুয়েল সাদাত

পৃথিবীর অন্য কোথাও সূর্য আপতিত না হলেও ফ্লোরিডার উপরে সূর্যের তির্যক প্রতিফলন থাকবেই।তাই ফ্লোরিডার নিকন্যাম বলা হয়ে থাকে ‘সানসাইন স্টেট’।এখানে শীত একেবারে নেই বললেই চলে।শীতে যেমন শীত সেভাবে অনুভূত হয় না, আবার গ্রীষ্মেও থাকে গরম। প্রচুর গরম।করোনা পরবর্তি গ্রীষ্মের উন্মাদনায় সারা আমেরিকা নাড়া চাড়া দিয়ে উঠেছে।গত গ্রীষ্মটা পুরো আমেরিকা গৃহবন্দি ছিল, তাই ২০২১ সালের এই জুন,জুলাই মাসে ভ্রমণের প্রতিযোগিতা চলছে,চলবে৷ ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক ক্যাপিটাল ফ্লোরিডার ওরলান্ডোতে উপছে পড়া পরিদর্শকদের ভীর।হোটেল,ভাড়া করা গাড়ি,রেস্টুরেন্ট, সমুদ্র সৈকতে মিলিয়ন মিলিয়ন পরিদর্শক।বিশ্বের সর্ববৃহৎ এমিউজমেন্ট পার্ক ডিজনি পুরো স্বাভাবিক পর্যায়ে।করোনাভাইরাস শুরুর পর ২০২০ সালে ডিজনি মাত্র ১০০ দিন বন্ধ ছিল।তারপর গত এক বছরের ধীরে ধীরে তা৷ স্বাভাবিক পর্যায়ে৷সারা বিশ্বের শিশুদের নিকট পরিচিত মিকি মাউস, মিনি মাউস এর মুল শহর ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড।

আমাদের নিকট সৌদিআরব যেমন যাওয়া বাধ্যতামুলক,আমেরিকানদের নিকট ডিজনি একটি স্বর্গ সুখের স্থান।আমেরিকার যে কোন শহর থেকে অরলান্ডো ইন্টারন্যাশনাল এযারপোর্টে নেমে মাত্র ৩০ মিনিট গাড়ি চালিয়ে পৌছে যাবেন ডিজনি ওয়ার্ল্ডে।অনেকেই হয়তো ভাবছেন ফ্লোরিডা ভ্রমন কি ব্যয়বহল? আসলে না।এখানে হোটেল রুম না নিয়ে রিজোর্টে থাকা যায় ২০০ ডলার দিয়ে, তিন বেডের রিজোর্টে দুই পরিবার থাকা যায়।তবে এই সময় ভাড়া করা গাড়ির মুল্য একটু বেশী। চাইলে নিজে গাড়ি চালিয়ে আসা যায়।নিউইয়র্ক থেকে ১১৪৬ মাইল।সময় লাগবে ১৮ ঘন্টা।আবার মিশিগান থেকে ফ্লোরিডা ১১৭০ মাইল।সময় লাগবে ১৮ ঘন্টা।প্লেনে আসা যায় ২০০ ডলার রাউন্ড ট্রীপ আড়াই ঘন্টা সময়ে।খাওয়ার খরচ খুব একটা বেশি না, তবে সেখানে খুব মান সম্মত ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট নেই।আহমেদ রেষ্টুরেন্ট, চ্যাট হাউস,ফিলি স্টিক সহ কিছু মিডল ইষ্টার্ন রেষ্টুরেন্ট গুগুল করলে পাওয়া যাবে।থাকার জন্য কিসিমি ওল্ড টাউন, ওয়ান নাইন্টি টু ওয়েষ্ট ভাল। যারা খরচ করতে পারেন তারা ডিজনির ভেতর ২৪ টি ডিজনি রিজার্ট এ থাকতে পারবেন।প্রতি রাত ৪০০ ডলার থেকে ২৫০০ ডলার।তবে ডিজনি রিজোর্ট গুলো অনেক সুন্দর।অনেকটা পার্কের মতো৷ডিজনি তে চারটি পার্ক রয়েছে,দুটো ওযাটার পার্ক।পার্ক গুলো প্রতিদিন এডমিশন ১১৬ ডলার। প্রথম প্রথম মনে হবে অনেক বেশী মুল্য, তবে মুল্যের চেয়ে বেশি আনন্দবোধ করবেন।

এখন নিশ্চয় আপনারা বলবেন ফ্লোরিডায় কি আছে ? দেখতে কেমন? হ্যাঁ ওয়ার্ল্ড হ্যাপিয়েষ্ট সিটি ওরলান্ডো।সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা নামে সুপরিচিত।৭২ মিলিয়ন পরিদর্শক ভ্রমন করেন অরলান্ডোতে। ৪৮৬ হোটেলে ১২৭৮০৯ হোটেল রুম আছে।আর জিজনি ওয়াল্ডে ২৪ টি রিজোর্টে ৩০ হাজার হোটেল রুম,প্রায় ১ লাখ পরিদর্শক রাত্রি যাপন করেন ইনসাইড ডিজনিতে।২৭ হাজার একর জায়গা নিয়ে ডিজনি।সেখানের মাত্র ৯৫০ একর জায়গা ব্যবহৃত হয়েছে।১৯৭১ সাল থেকেই ডিজনি ওয়ার্ল্ড পৃথিবীর সেরা আকর্ষন।এ বছর অক্টোবরে ডিজনি ৫০ বছর পুর্তি করতে যাচ্ছে।ম্যাজিক কিংডম,এনিম্যাল কিংডম,হলিউড স্টুডিও, এপকট এই চারটি পার্কই ডিজনি ওয়ার্ল্ড।সাথে আছে ব্লিজার্ড বীচ,টাইফুন লেগুন দুটো ওয়াটার পার্ক।ওরলান্ডোতে ডিজনি ছাড়াও আছে ইউনিভার্সেল ষ্টিডিও,সিওয়ার্ল্ড ও কেনেডি স্পেইস সেন্টার (নাসা)।আছে স্পেস সেন্টার।৪২ একর জায়গা নিয়ে ১৯৬৭ সালে নাসা আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।এটাই বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিচিত নাসা স্পেস সেন্টার।প্রতি বছর দেড় মিলিয়র পরিদর্শক ভ্রমন করেন।বছরে ৬/৭ শাটল লঞ্চ করে৷ ৫৭ ডলারের টিকেটে সারাদিন ট্যুর করে দেখার মত একটি জায়গা৷বাংলাদেশী বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এখান থেকে যাত্রা করে।ওরলান্ডো শহর থেকে দেড় ঘন্টা দুরত্বে নাসা।আছে ডেটোনা ৫০০ নামে পরিচিত কার রেইস ট্রাক ডেটোনাতে।ডেটোনা বীচ ছাড়াও পুরো ফ্লোরিডাতে আছে ৫০ টি সমুদ্র।এককথায় সমুদ্রের রাজধানী বলা যায়।যারা মাছ শীকার করতে পছন্দ করেন তারা আনন্দ পাবেন৷ ঘন্টা দেড়েক গাড়ি চালানোর পরই সমুদ্র কাছে টানবে আপনাকে।আছে লেগোল্যান্ড, কিসিমিতে আছে গ্যাটরল্যান্ডে।কুমিরের পার্ক,হাজার হাজার এলিগেটর আপনাকে খেলা দেখাবে।ফ্লোরিডা থেকে আড়াই ঘন্টা গাড়ি চালানোর পর পেয়ে যাবেন সেন্ট আগাষ্টিন শহর,যেটা আমেরিকার প্রথম সিটি ১৫০০ শতাব্দীর শহর।

এখানেই আমেরিকার গোড়াপত্তন।সেখানে আমেরিকার প্রথম স্কুল এবং প্রথম জেল।স্পেনিশরা বৃটিশদের তাড়িয়ে সেন্ট আগাষ্টিন দখল করে।তাই পুরো ফ্লোরিডায় স্পেনিশদের আধিপত্ত আজো বিরাজমান।কিভাবে আসবেন, কি দেখবেন বা ডিজনি নানা প্যাকেজের জন্য আছে ফ্লাইঅনকল.কম।ফ্লোরিডা গরমের শহর, শীত বা স্নো বলতে কিছু নেই।৯০ থেকে ১০৫ তামমাত্রা আপনার ভ্রমনকে আনন্দদায়ক করে তুলবে।ফ্লোরিডাতে সুখ নামের পাখিটি পাশাপাশি হাঁটে, বাস্তবতায় আছে স্বপ্নের জগতের বড় বড় বাড়ি, চমৎকার আবহাওয়া, গাল্ফ খেলার জায়গা,এমিউজমেন্ট পার্ক, আইল্যান্ড, ক্রুজ,প্রাইভেট প্লেন, হেলিকপ্টার রাইড, ডিপ ফিশিং, ডলফিন পার্ক আরো অনেক কিছু।খরচের হিসাবে উনিশ বিশ করে সাহস করে বেরিয়ে পড়লেই হাতের নাগালে পেয়ে যাবেন স্বপ্নের বাস্তবতা।।