সোস্যাল মিডিয়ায় সরব দুই মেয়র প্রার্থী

আসলে বর্তমান যুগে সামনাসামনি না থেকেও একটি ঝগড়া দেখা যায়। আর সেটা হলো ফেসবুক ঝগড়া (পাল্টাপাল্টি মন্তব্য, লাইক বর্জন, ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে খোঁচা দানকারী স্ট্যাটাস ইত্যাদি)। এই ক্ষেত্রে দুজন ঝগড়া শুরু করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে তৃতীয় অথবা আরও অনেক মানুষ এই ঝগড়ায় যোগদান করেন। পরবর্তীতে তা বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে দুজন ঝগড়া শুরু করেছেন তারা বন্ধু হয়ে গেছেন, কিন্তু বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বাকি সবাই তখনো চালিয়ে যাচ্ছেন।

আসছে সিটি নির্বাচন। একজন মহিলা মেয়র প্রার্থী যিনি বিগত কয়েক বছর ধরে মেয়রের চেয়ার দখল করে বসে আছেন। আসলে দখল বলাটাও কিন্তু ঠিক হবেনা বরং সবার ভালোবাসায় তিনি এই চেয়ারের মালিক হয়েছেন। অন্যজন হলেন পুরুষ মেয়র প্রার্থী। তিনি একজন চিকিৎসক।রাজনীতিতে তাঁর পথচলা একদম নতুন বললেই চলে। যারজন্য মহিলা মেয়র প্রার্থীর উত্তর দিতে গিয়ে ঐ পুরুষ মেয়র প্রার্থী কিছুটা হিমশিম খেয়েছিলেনই বটে।

ঝগড়াটি শুরু হয় পুরুষ মেয়র প্রার্থীর একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। তিনি সেখানে বলেছিলেন, চিকিৎসা থেকে তাঁর রাজনীতিতে চলে আসা, চিকিৎসা হচ্ছে একটি প্রমাণ-ভিত্তিক অনুশীলন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে  সবকিছুই গবেষণা এবং তথ্যের উপর ভিত্তি করে। আর রাজনীতিতে সবকিছুই মতামতের উপর ভিত্তি করে।

মহিলা মেয়র প্রার্থী তাঁর ফেসবুকে লিখেন,“আমার প্রতিপক্ষ বলেছেন যে, রাজনীতিতে নাকি সবকিছুই মতামতের উপর নির্ভর করে।”

উত্তরে পুরুষ মেয়র প্রার্থী লিখেন, “আমি সেখানে রাজনীতি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের মধ্যে তুলনা করেছি। আমি বলেছি ওষুধ এবং বিজ্ঞান হল প্রমাণ ভিত্তিক অনুশীলন এবং রাজনীতি হল মতামত ভিত্তিক। আপনি জানেন যে আমি একজন রাজনীতিবিদ নই তাই আমি চিকিৎসক হয়ে যা শিখেছি তা হলো, সততা, বিশ্বস্ততা এবং এমনকি সম্মান করার জন্য আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গোপনীয়তা যা রাজনীতিতে বিদ্যমান নেই।”

তখন মহিলা মেয়র প্রার্থী লিখেন, “প্রত্যেক নির্বাচিত কর্মকর্তাকে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়.. এবং যে কেউ পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তিনি যা কিছু করেন না কেন তিনি কিন্তু সংজ্ঞা অনুসারে একজন রাজনীতিবিদ।”

জবাবে পুরুষ মেয়র প্রার্থী লিখেন, “কিছু লোকের অনুপ্রেরনায় আমি এখন একজন রাজনীতিবিদ হয়ে গেছি। আপনার চেয়ারে আমি যখন বসার সুযোগ পাবো আপনাকে কিন্তু আমাকে সাহায্য করতে হবে।”

মহিলা মেয়র প্রার্থী লিখেন, “আমার সাহায্য ছাড়া আপনি যখন এই চেয়ারে বসতে ভয় পাচ্ছেন তাহলে এই চেয়ারটা আমারই থাক।”

পুরুষ মেয়র প্রার্থী লিখেন, “কবে থেকে এই চেয়ার শুধু নারীদের জন্য হলো? এবং কেন একজন মহিলা চিরকাল একই চেয়ার দখল করে বসে থাকবেন, এবং ভাববেন যে তিনি ছাড়া এই চেয়ারে অন্য কেউ বসতে পারবে না? আমার মনে হচ্ছে সিটির পতন না হওয়া পর্যন্ত আপনি এই চেয়ার ছাড়বেন না। দীর্ঘ বছর ধরে আপনি এই চেয়ারে বসছেন, তাই আপনাকে সম্মান করে কথাটি বলেছিলাম। আসলে সত্যি কথা হলো, আমাকে আপনার সাহায্যের প্রয়োজন হবে না, কারণ আপনি আমাকে সেই একই পুরানো গান শুনাবেন যা আমাদের সিটির কোনও সমস্যার সমাধান হবে না। যাইহোক, আমাকে এখন ভোটারদের কাছে যেতে হবে, আপনার সাথে ফেসবুকে তর্ক করার মতো সময় আমার নেই।”

কিছুক্ষনের মধ্যে তাদের সাথে যুক্ত হলেন আরো দুই তিন জন সদস্য। এরপর তৃতীয় অথবা আরও অনেক মানুষ একটি ঝগড়ায় যোগদান করলে কোথায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে সেটা আপনারই বুঝে নেবেন।