ফিটজ্যারাল্ড স্কুল বোর্ডে হালাল খাবার ও ঈদের ছুটির দাবী বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটির

নাজেল হুদা,মিশিগানঃ মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন সিটির ফিটজ্যারাল্ড পাবলিক স্কুলে হালাল খাদ্য সরবরাহ ও দুই ঈদে ছুটি ঘোষণার দাবি তুলে ধরেছেন মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি। ১৩ ডিসেম্বর ফিটজ্যারাল্ড স্কুল বোর্ড মিটিংয়ে কমিউনিটির দুইজন নেতা মুসলিম শিক্ষার্থীর জন্য হালাল খাবারের এই দাবি তুলেন স্কুল বোর্ডের কাছে।

জবাবে বোর্ডের সভাপতি জুলি ইয়োকেল বলেছিলেন যে তিনি প্রস্তাবটি শুনে খুব খুশি এবং তিনি জেলার মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হালাল লাঞ্চ প্রোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

হ্যামট্র্যামেক এবং ডিয়ারবর্ন পাবলিক স্কুল সফলভাবে হালাল মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। ওয়ারেনও সামান্য প্রচেষ্টার সাথে বাস্তবায়ন করতে পারবে – এমন মন্তব্য করেছেন ফ্রন্টিয়ার একাডেমি ও উয়েইন কান্ট্রি কমিউনিটি কলেজের ট্রাষ্টি কামাল রহমান। তিনি বলেন, ওয়ারেন ফ্রন্টিয়ার ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি ইতিমধ্যে হালাল দুপুরের খাবার সরবরাহ করে। ফ্রন্টিয়ার ইন্টারন্যাশনাল একাডেমীতে হালাল মধ্যাহ্নভোজ বাস্তবায়নের সাথে আমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, আমি ওয়ারেন স্কুলে হালাল মধ্যাহ্নভোজ বাস্তবায়নে সাহায্য করার জন্য আমার সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছি অনেক ছাত্র-ছাত্রী দুপুরে অনাহারে থাকে এবং সন্ধ্যায় প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়ে ঘরে ফিরে। এ অবস্থায় অনেকে হোমওয়ার্ক করতে সক্ষম হচ্ছে না। ফিটজ্যারাল্ড পাবলিক স্কুলের প্রতি ১০ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে চারজনই মুসলমান। ক্ষুধার কারণে কোনো ছাত্রই যাতে নিজেদের ধর্মীয় রীতির সঙ্গে আপস করে অপছন্দের খাদ্য গ্রহণ করতে বাধ্য না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আসালের সভাপতি ড: রাববী আলম বলেন, সমগ্র মুসলিম জনগোষ্ঠীর এ দাবি আদায়ের চেষ্টায় আমরা আছি। তিনি বলেন, বেশি দিন হয়নি আমরা এই দাবিতে কাজ করছি। যদিও একটু সময় লাগবে তবে ফিটজ্যারাল্ড পাবলিক স্কুল বোর্ড আমাদের এই সহজ দাবিটি বাস্তবায়ন করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। এখানের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মুসলিম পরিবার থেকে আসে। এসব সন্তানেরা স্কুলে সরবরাহ করা খাবার খেতে পছন্দ করে না। কেননা সেগুলো হালাল উপায়ে প্রস্তুত না। আজ আমাদের সন্তানদের স্কুলে হালাল খাবার পরিবেশন একটি সময়ের দাবী।

মিশিগান স্টেটের ওয়ারেন সিটির ফিটজ্যারাল্ড পাবলিক স্কুলের মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের দাবী একজন মা প্রথম উত্থাপন করেছিলেন। ফারজানা চৌধুরী পাপড়ি বলেন, আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই দাবি তুলেছি। আমার ৩টি সন্তান। বড় মেয়ে এবং বড় ছেলে ফিটজ্যারাল্ড পাবলিক স্কুল থেকে পড়াশোনা করিয়েছি। আমার বড় মেয়ে তার পুরো স্কুল জীবনে কোনো দিন স্কুলে দেয়া খাবার খেতে পারেনি, কারণ স্কুলে হালাল খাবারের ব্যবস্থা ছিলো না। তার আশংকা ছিলো যে, একই পাত্রে হয়তো শূকরের মাংস অথবা এর কোনো উপাদান দিয়ে খাবার প্রস্তুত হয়েছে। একই কারণে, আমার বড় ছেলে স্কুলে কেবল ঠান্ডা দুধ পান করত। আমার ছোট ছেলে নতুন স্কুলে ভর্তি হয়েছে। স্কুলে যাবার সময় বাসা থেকে টিফিন বক্সে দুপুরের খাবার নিয়েছিল। কিন্তু তা ঠান্ডা হওয়ায় সে খেতে পারেনি। না খেয়েই বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস শেষে বাসায় ফিরে আসে। এটি শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা কি বলার অপেক্ষা রাখে? । এসব কারণেই আমি আমার কমিউনিটির ছেলেমেয়েদের এই স্কুল কর্তৃপক্ষকে হালাল খাবার পরিবেশনের দাবী জানাতে উদ্ভুদ্ধ করেছি, বলছিলেন ফারজানা।

হালাল খাবারের দাবি তোলার পেছনে কাজ করছেন মিশিগানের অনেকেই। তাদের মধ্যে কামাল রহমান, হ্যামট্রামিক সিটির কাউন্সিলর কামরুল হাসান, সাবেক কাউন্সিলর আবু আহমদ মুসা, সাবেক কাউন্সিলর এনাম মিয়া, ড: রাববী আলম, মোশারফ চৌধুরী লিটু, শাহাদাত হোসেন মিন্টু, মিনহাজ রাসেল চৌধুরী, মইনুল হক আলম, নাজেল হুদা, সাকের উদ্দীন সাদেক, রেবেকা ইসলাম, সেলিনা খান, ফারজানা চৌধুরী পাপড়ি, এবং আরো অনেকেই।