মিশিগানে বাড়ির পেছনের আঙিনায় জনপ্রিয় হচ্ছে সবজি চাষ

 

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে গ্রীষ্মে বাড়ির পেছনের আঙিনায় সবজি চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।নিত্য কাজের ফাঁকে চাষাবাদ করে একটু একটু করে বারো মাস ধরে খাওয়া যায় বলে প্রবাসীদের কাছে সবজি চাষ জনপ্রিয়।বাংলাদেশি যারা সবজি চাষ করেন বা যারা চাষ করেন নাই, তারা এমন স্বজনদের সবজি উপহার দিয়ে থাকেন।এ সব তাজা সবজি দেখতে যেমন সতেজ এবং খেতেও সুস্বাদু।তাই লোকজন বলে থাকেন, ‘সামারের আঙিনার সবজিতে রয়েছে দেশীয় স্বাদের জাদু।’ আমেরিকার জীবন কর্মব্যস্ততার।সবাই যার যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবাই একটু অবসর হয়।মিশিগানের ওয়ারেন শহরের বাসিন্দা হেপী ইসলাম।তিনি বললেন, ছুটির দিনে বাগানে আসি।দেখভাল করি।সবুজে ঘেরা বাগানের অন্যরকম একটা পরিবেশ।খুব ভালো লাগে। আমি অনেক বছর ধরে সবজি চাষ করি।উইন্টার শেষ হওয়ার পর পরই পরিকল্পনা।এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের শুরুতে বীজ লাগানো শুরু করি।সবজির মধ্যে টমেটো, আলু, বেগুন, শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাঁটা, ঢেঁডশ, বরবটি উল্লেখযোগ্য।এ ছাড়া শাকের মধ্যে রয়েছে লাল শাক, পুঁই শাক এবং লাউ শাক। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পালাক্রমে সবজি তুলি।খেত থেকে সবজি তুলে নিত্যদিন খাওয়ার পরও ফ্রিজে সংরক্ষণ করি অনেক সবজি।সেখান থেকে একটু একটু করে বারো মাস পরিবারের সদস্যরা খেয়ে থাকেন।তিনি আরও বলেন , ‘চ্যানেল আই‘র জনাব শাইখ সিরাজের ‘হৃদয়ে মাঠি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান দেখেই আমার বাগান শিক্ষা।’ গ্রীষ্মে মিশিগানে কত বাংলাদেশি পরিবার শখের সবজি চাষ করেন তার হিসেব নেই।ওয়ারেনের বাসিন্দা নাইমা হোসেইন বলেন, গতবছর আমার বাগানে লাগানো লাউ বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। প্রতিবেশীসহ অনেককেই তা উপহার হিসেবে দিয়েছি এবং এই বছরও দেবো ইনশাআল্লাহ।এছাড়া তিনি কচু, শিম, মরিচ,মিষ্টি কুমড়া,করোলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা,ধুন্দুলসহ আরও কয়েক পদের সবজি চাষ করেছেন বলেও জানান।সবজির চারা কোথায় পাওয়া যায় এমন প্রশ্নে মিশিগানের শৌখিন সবজি চাষি ফাতেমা বেগম বলেন, আমি অবসরজীবন যাপন করি।ছোট ছেলে নার্সারি থেকে মাটি, সার এবং সবজি চারা নিয়ে আসে।সেসব চারা মাটিতে গর্ত করে লাগাই এবং সকাল-সন্ধ্যা পরিচর্যা করে ফল দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি।এবার কি চাষ করেছেন জানতে চাইলে ফাতেমা বেগম বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আমার ছেলে নার্সারি থেকে টমেটো, বেগুন, শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢেঁডশের চারা নিয়ে এসেছে।ওয়ারেনের এগারো মাইলের বিদেশি নার্সারিতে নাকি নাগা মরিচেরও চারা পাওয়া যায়। নাগা মরিচের চারা পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। খেতের সবজি কি করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরো সামার খাওয়ার পর ফ্রিজে রেখে দিই এবং আত্মীয়স্বজনকেও মাঝে মধ্যে দিই।