কোনো এক মহল আমাদের দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে :ট্রাম্প

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার সন্ধ্যায় জর্জিয়ায় এক জনসভায় বক্তৃতা দেন। ‘সেভ আমেরিকা’ নামের এ জনসভা জর্জিয়ার পেরি নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়।

জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা এখন অভিবাসীদের ক্যাম্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিবাসীদের প্রবাহকে আমেরিকার ওপর আক্রমণের সঙ্গে তিনি তুলনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো এক মহল আমাদের দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

এছাড়াও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জাতিসংঘে দেওয়া বক্তৃতায় ‘কমিউনিস্ট চীন’ নিয়ে কোনো কথাই বলেননি বলে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সারা বিশ্বে মহামারি ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য চীন দায়ী বলে ট্রাম্প তার বক্তৃতায় আবার উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প বলেন, তাকে বড় মুখে কথা বলার জন্য অপবাদ দেওয়া হয়। তিনি বড় মুখে কথা বলার মানুষ নন। তার মুখ সব সময় সত্য কথা বলে থাকে। মুখের মাধ্যমে তিনি দেশকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণে দেশ আজ নরকে পরিণত হয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে এমনটি কখনো হতো না বলে ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প বলেন, আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশকে ডেমোক্র্যাটদের হাত থেকে উদ্ধার করা হবে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের জন্য জর্জিয়াই হয়ে উঠবে আমেরিকার রাজনৈতিক যুদ্ধের মূল ক্ষেত্র। জর্জিয়ার জনগণের সাহায্যে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে আগামী বছর ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে সান ফ্রান্সিসকোর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

সংবাদমাধ্যমের ওপর অভিযোগ করে ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেমোক্র্যাটদের বেলায় এক আচরণ করে এবং তাঁর বেলায় ভিন্ন আচরণ করে। সংবাদমাধ্যমের মতে, ডেমোক্র্যাট দলের কেউ নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নিলে ঠিক আছে। অথচ তাঁর বেলায় ঠিক নেই। তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেননি এবং কখনো মেনে নেবেন না বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সমর্থক ও জনগণের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি রয়েছে বলেই তিনি নির্বাচনের পরাজয় কখনো মেনে নেবেন না।

আট মাসের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট জো আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট হয়ে উঠেছেন বলে ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এতে করে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার খুশি হওয়ার কথা। কারণ, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আগে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিমি কার্টারকে বিবেচনা করা হতো।