ভার্চুয়ালি পালিত হবে বিশ্ব হিজাব দিবস

ফারজানা চৌধুরীঃ হিজাব একটি আরাবী শব্দ এর অর্থ আবৃত রাখা। অর্থাৎ একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী তার শরীরের সৌন্দর্য প্রকাশ করে এমন অংশকে ঢেকে রাখাকে হিজাব বলে।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে বিশ্ব হিজাব দিবস। আন্তর্জাতিক হিজাব বিরোধী মনোভাব পরিহারের, ধর্ম ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানিয়ে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিশ্বের সব বর্ণ, ধর্ম-নির্বিশেষে সব নারী নানাভাবে উদযাপন করবেন দিবসটি। করোনা মহামারির কারণে গত বছরের মতো এবারও দিবসটি ভার্চুয়ালি উদযাপিত হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে আন্তর্জাতিক সময় সকাল ১১ থেকে দুপুর ২ পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার হবে। ২০১৩ সাল থেকে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। সেই থেকে হাজারো মুসলিম, অমুসলিম নারী হিজাব পরে দিবসটি পালন করেন।

বিশ্ব হিজাব দিবস সম্পর্কে অনেকেই হয়তো তেমন কিছু জানেন না। নিউইয়র্ক জ্যমাইকায় বেড়ে ওঠা অল্প বয়সী বাংলাদেশী ছাত্রী নাজমা খান হিজাব পরিধানের কারনে আক্রমণের স্বীকার হন কয়েক বছর আগে।

নাজমা খান ১১ বছর বয়সে বাবা-মার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন। তিনি যখন হিজাব পরে স্কুলে যেতেন, তখন অনেক অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হতো।কলেজ জীবনেও ক্রমাগতভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনার পর এই উৎপীড়ন নতুন আরেকটি স্তরে পৌঁছায়। প্রতিদিন রাস্তায় হাঁটার সময় তাকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতো। পেছন থেকে ধাওয়া করা হতো, শরীরের ওপর থুতু ফেলতো, পুরুষেরা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরতো। লাদেন’, ‘সন্ত্রাসী’ ইত্যাদি আখ্যা দেয়া হতো। মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় ‘ব্যাটম্যান’ এবং ‘নিনজা’ বলে ডাকতো অনেকে।

হিজাবের কারণে একই ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়া অন্যান্য মুসলিম নারীদেরকে একত্রিত করতে সেই নাজমা খানকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশী এক্টিভিট সেইফষ্ট সিইও মাজেদা আক্তার উদ্দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম আর অব্যাহত আন্দোলনের ফলে ২০১৬ সালে নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টে স্টেট সিনেটর রোকসানা জে পারসোয়াদ’ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’র মাধ্যমে নারীদের হয়রানী বন্ধের উদ্দ্যোগ গ্রহনের দাবী জানান। এ দাবীর প্রেক্ষিতে ‘ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’ শিরোনামে জাতীয় সেলিব্রেশন ডে বিলটি পাশ হয়।

মাজেদা বলেন, কয়েক বছর আগে নাজমা খান নামক এক বাংলাদেশি ছাত্রী জ্যামাইকায় আক্রান্ত হন।হিজাব মাথায় দিয়ে তিনি পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন বলেই বিদ্বেষমূলক আচরণের কবলে পড়েন। সেই ঘটনার প্রতিবাদ, নিন্দা এবং সর্বসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে শুরু হওয়া প্রতিবছরের মতো হিজাব দিবস এবারও উদযাপিত হবে ঐ একই চেতনায়।
কারণ এখনও ধর্মীয় পোশাক, জাতিগত কারণে বৈষম্যের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে সর্বত্র।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার খর্ব করার বিরুদ্ধে নিরবতা অবলম্বনের সুযোগ নেই। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। হিজাব দিবসে সে সুযোগ দেয় সকল অধিকার সচেতন মানুষকে। আপনি কোন ধর্মের-বর্ণের-গোত্রের, সেটি বড় কথা নয়, আপনি একজন মানুষ- এ চেতনায় আমরা জড়ো হবো।

মাজেদা আরও বলেন, আমরা নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টে ‘ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’র দাবি জানিয়েছিলাম। ২০১৬ সালে সে বিল উঠিয়েছিলেন স্টেট সিনেটর রোকসানা জে পারসুয়াদ। সেটি পাশ হওয়ার পর সেখানে এটি জাতীয় দিবসের মর্যাদা পেয়েছে।হিজাব দিবসের সাথে ইতোমধ্যেই সংহতি প্রকাশ করেছেন ৪৫ দেশের ৭০ জনের অধিক রাষ্ট্রদূত, খ্যাতনামা রাজনীতিক, স্কলারসহ বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম সিএনএন ও টাইম ম্যাগাজিন ‘হিজাব ডে’-এর সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেন।